free hit counter
বাংলাদেশ

আগুনে নিঃস্ব হয়ে গেলাম

তিন ঘণ্টার আগুনে পুড়ে ছাই চারটি জুতা তৈরির কারখানা ও একটি মুদি দোকান। এতে কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্তদের। 

বুধবার ভোররাত সাড়ে ৫টার দিকে নগরের পূর্ব মাদারবাড়ি কামাল গেট এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

আগুনে ওই এলাকার দুলাল, জসিম মিয়া, খলিল ও মো. আমিনের চারটি জুতার কারখানা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। একইসঙ্গে জুতার কারখানার সঙ্গে থাকা হান্নান নামে এক ব্যক্তির মুদি দোকান পুড়ে ছাই হয়েছে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত বলে ধারণা ফায়ার সার্ভিসের।

পুড়ে যাওয়া চারটি কারখানার মধ্যে সবচেয়ে বড় কারখানা ছিল মো. আমিনের। মো. আমিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগুনে আমার সব পুঁজি শেষ। কারখানায় ৫০ লাখ টাকার জুতা ও জুতা তৈরির মালামাল ছিল। আগুনে সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমি এখন নিঃস্ব হয়ে গেলাম। এখানে শুধু আমার বিনিয়োগ ছিল তা নয়; ব্র্যাক ব্যাংক থেকে ১০ লাখ টাকার লোন নিয়ে দোকানে মালামাল তুলেছি। পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজন থেকে ধার নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছি। আগুন লাগার পর কোনও মালামাল বের করতে পারিনি।’

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে জুতার কারখানায় আগুন

কারখানায় জুতা তৈরির শ্রমিক আবু জাফর বলেন, ‘ভোর সাড়ে ৫টার দিকে প্রথমে জসিম মিয়ার কারখানায় আগুন লাগে। আমরা তখন কারখানায় ঘুমাচ্ছিলাম। তাদের চিৎকারে আমাদের ঘুম ভাঙে। আমরা কোনও রকম বের হতে পারলেও জিনিসপত্র বের করতে পারিনি। কারখানায় শ্রমিক ছিল ১৫ জন, খলিলের কারখানায় আট জন, দুলালের কারখানায় ১০ জন এবং জসিমের কারখানায় ছয় জন ছিল। তবে আগুনে কেউ হতাহত হয়নি।’

দুলাল, জসিম মিয়া ও খলিল জানিয়েছেন, আগুনে তাদের সব মালামাল পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। এর মধ্যে জসিমের ২৫ লাখ, দুলালের ১৫ লাখ ও খলিলের কারখানার ১৫ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে।

বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, আগুনে টিনশেডের কারখানা চারটি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এমনকি আগুনে ভবনের বিভন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। দোকানগুলো থেকে পুড়ে যাওয়া মালামাল বের করছেন শ্রমিকরা।

আগুনে ভবনের বিভন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে

নগরের সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘আগুনে চার ব্যক্তির চারটি জুতার কারখানা সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এতে কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্তরা দাবি করেছেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।’

ফায়ার সার্ভিসের আগ্রাবাদ স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক নিউটন দাশ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। ছয়টি ইউনিট প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।’

তিনি বলেন, ‘জুতার কারখানা হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে সময় লেগেছে। ক্ষয়ক্ষতি ও আগুন লাগার কারণ জানা যায়নি। তদন্ত সাপেক্ষে তা জানা যাবে। তবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করছি।’

Source link