Image default
বাংলাদেশ

অবরোধের নামে দেশব্যাপী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত: কাজী নাবিল এমপি

যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ বলেছেন, ‘নির্বাচন প্রতিহত করতে অবরোধের নামে দেশব্যাপী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও নৈরাজ্য শুরু করে দিয়েছে বিএনপি-জামায়াত। কিন্তু দেশের মানুষের আস্থা রয়েছে জননেত্রী শেখ হাসিনার ওপর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলে দিয়েছেন, আগামী নির্বাচন অবাধ ‍ও সুষ্ঠু হবে। জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট হবে।’

তিনি বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের গরিব-দুঃখী মানুষের কথা চিন্তা করেন। সে কারণে তাদের কল্যাণে দিনরাত পরিশ্রম করে চলেছেন। আজ দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়েছে, গ্রাম-শহরের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হয়েছে, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়েছে। পদ্মা সেতু ছিল এই অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি, শেখ হাসিনা সে দাবি পূরণ করেছেন। যার সুফল পাচ্ছে মানুষ। পদ্মা সেতু দিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। কয়েকদিন আগে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত দেশের প্রথম সুড়ঙ্গপথ বঙ্গবন্ধু টানেল উদ্বোধন করেছেন। মানুষের কল্যাণে একের পর এক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন প্রধানমন্ত্রী।’

রবিবার (০৫ নভেম্বর) বিকালে যশোর সদরের ঝুমঝুমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে রাস্তা পাকাকরণকাজের উদ্বোধন ও শান্তি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। ঝুমঝুমপুর থেকে সুলতানপুর ও হামিদপুর বাজার থেকে রাজারহাট সেতু পর্যন্ত রাস্তা পাকাকরণকাজের উদ্বোধন উপলক্ষে এ শান্তি সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ফতেপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ সোহরাব হোসেন। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সমাবেশে উপস্থিত হন।

হরতাল-অবরোধের নামে দেশব্যাপী বিএনপি-জামায়াত নৈরাজ্য চালাচ্ছে জানিয়ে সংসদ সদস্য কাজী নাবিল বলেন, ‘ভোটের আগে আবারও দেশব্যাপী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও নাশকতা শুরু করেছে বিএনপি-জামায়াত। তারা দেশের ভেতরে ও বাইরে ষড়যন্ত্র করছে। কারণ তারা স্বাধীনতা মানে না। ২০০১-২০০৬ সালে তাদের নারকীয় কর্মকাণ্ডের কথা আজও ভোলেনি মানুষ। দেশব্যাপী সিরিজ বোমা, গ্রেনেড হামলা, বাংলা ভাইয়ের উত্থান, বিদ্যুৎ চাইতে গিয়ে গুলি, সার চাইতে গিয়ে ১৮ কৃষকের মৃত্যুর কথা দেশবাসী কখনও ভুলতে পারে না।’

২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত দেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল বিএনপি-জামায়াত উল্লেখ করে কাজী নাবিল বলেন, ‘তাদের সময়ে দেশ দুর্নীতিগ্রস্ত ও ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিল। সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলা চালানো হয়েছিল। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। ওই সময় আমাদের নেত্রী আইভি রহমানসহ আওয়ামী লীগের ২২ নেতাকর্মী নিহত এবং অন্তত ৫০০ নেতাকর্মী, পথচারী ও সাংবাদিক আহত হন। গ্রেনেড হামলায় অর্থমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা শাহ এ এম এস কিবরিয়া, আহসানউল্লাহ মাস্টারসহ দলের বহু নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল। তাদের আমলে দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান হয়েছিল, জন্ম হয়েছিল বাংলাভাইদের।’

২০১৪ সালে নির্বাচন বানচাল করতে প্রায় তিন হাজার সরকারি অফিসে আগুন দিয়েছিল বিএনপি-জামায়াত জানিয়ে সংসদ সদস্য কাজী নাবিল বলেন, ‘চলন্ত বাসে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা করেছিল তারা। ঘুমন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছিল। রেললাইন উপড়ে ফেলেছিল, গাছ কেটে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়েছিল। তাদের সেসব নাশকতা দেশবাসী কখনও ভুলবে না। আবারও সেই ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করেছে তারা।’

বিএনপি-জামায়াতের হরতাল-অবরোধের প্রতিবাদে শহরে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন সংসদ সদস্য কাজী নাবিল

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও অবকাঠামো খাতসহ বিভিন্ন সূচকে দেশের অগ্রগতির কথা জানিয়ে কাজী নাবিল বলেন, ‘২০০৯-২০২৩ সাল পর্যন্ত আমরা দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছি। শিক্ষা, কৃষি, শিল্প, রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্টসহ নানা উন্নয়নের কারণে সারাবিশ্বে আমরা এখন রোল মডেল। বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দ আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই অভূতপূর্ব উন্নয়নের গল্প শুনতে চান।’

তিনি বলেন, ‘২০০৯ সালে আমাদের জিডিপি ছিল মাত্র ৬০ মিলিয়ন ডলার, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬০ মিলিয়ন ডলারে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল তিন হাজার মেগাওয়াট, যা বর্তমানে ২৫ হাজার মেগাওয়াট। আমাদের মাথাপিছু আয়ও বেড়েছে। এগুলো সম্ভব হয়েছে জননেত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়তার কারণে। শেখ হাসিনা সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশার কথা সবসময় ভাবেন এবং তাদের জন্য কাজ করেন। সে কারণে তিনি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা জীবনবাজি রেখে লড়াই করেছেন, তাদের ভাতা বাড়িয়েছেন। বিধবা, বয়স্ক, শিক্ষা উপবৃত্তি এমন দেড় শতাধিক ভাতা চালু করেছেন, যাতে দেশের মানুষ একটু ভালো থাকতে পারেন।’

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সংসদ সদস্য কাজী নাবিল বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে আমাদেরকে জনগণের পাশে থাকতে হবে। প্রত্যেক নেতাকর্মীকে সাধারণ মানুষের কাছে যেতে হবে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তাদের বোঝাতে হবে। যুব মহিলা লীগ ও মহিলা লীগের নেত্রীরা গ্রামে, পাড়ায়-মহল্লায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে মা-বোনদের বোঝান। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রাখতে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই, শেখ হাসিনা মানেই শান্তিতে বসবাস, উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি—বিষয়গুলো সবাইকে বোঝাতে হবে।’

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মেহেদী হাসান মিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম আফজাল হোসেন, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুখেন মজুমদার, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বিপুল ও জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি মঞ্জুন্নাহার নাজনীন সোনালী।

বিএনপি-জামায়াতের হরতাল-অবরোধের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল

শুভেচ্ছা বক্তব্যে সমাবেশের সভাপতি শেখ সোহরাব হোসেন ফতেপুর ইউনিয়নে গত ১০ বছরে রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের তথ্য উপস্থাপন করেন। সেইসঙ্গে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও কাজী নাবিল আহমেদকে নৌকা প্রতীক উপহার দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান। 

এর আগে দুপুর ১২টার দিকে বিএনপি-জামায়াতের হরতাল-অবরোধের প্রতিবাদে শহরে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন সংসদ সদস্য কাজী নাবিল। মিছিলে জেলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, যুব মহিলা লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ ও শ্রমিক লীগের হাজারো নেতাকর্মী অংশ নেন। জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল বের হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে সমাবেশে মিলিত হয়।

Source link

Related posts

জমে উঠেছে খুলনার ঈদ বাজার

News Desk

‘খালেদার ফুসফুসে পানি নেই, হার্ট-কিডনিতে সমস্যা’

News Desk

অনুমতি পেতে ৬ মাস, বিয়ে করতে মালয়েশিয়ান তরুণী কুমিল্লায়

News Desk

Leave a Comment