free hit counter
জানা অজানা

মৌমাছি বদলে দিয়েছিলো বিয়ারের বোতলের ডিজাইন

কখনও কখনও খুব ছোট্ট ঘটনাই খুব বড়কিছুর সুচনা করে। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার মৌমাছির এক প্রজাতির নাম, জুয়েল বি। সোনালি রঙের এই মৌমাছির একটি আচরণ বদলে দিয়েছিলো অস্ট্রেলিয়ার বিয়ারের বোতলের ডিজাইন। কিভাবে সেটা ঘটেছিলো সেটাই আমরা জানবো আজকে।

তখন আশির দশকের সেপ্টেম্বর মাস। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় বসন্ত কাল। দুই তরুণ জীববিজ্ঞানী ড্যারিল গোয়েন এবং ডেভিড রেন্জ মাঠে কাজ করছিলেন। তারা হাইওয়ে থেকে খানিকটা দূরে একটা বিয়ারের বোতল দেখতে পেলেন। সেটি অস্বাভাবিক কিছু ছিলো না। কারন, প্রায়ই অস্ট্রেলিয়ানরা রাস্তা থেকে এমন বিয়ারের বোতল ছুড়ে মারতেন। কিন্তু যেটা দুই তরুণ বিজ্ঞানীর মনোযোগ কেড়ে নেয় সেটা হচ্ছে, এর উপরে বসে থাকা একটা পুরুষ মৌমাছি।

তারা আবিষ্কার করেন যে, মৌমাছিটি বোতলটির সাথে যৌনক্রিয়া করার চেষ্টা করছে। বিজ্ঞানী দুইজন বোতলটি ঝাকি মেরে মৌমাছিকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হচ্ছে না। তারা আরেকটু খুজতে গিয়ে এমন আরও তিনটি বিয়ারের বোতল আবিষ্কার করলেন। এরমধ্যে দুইটা বোতলে আবারও পেলেন পুরুষ মৌমাছি। তারাও বোতলের সাথে যৌনক্রিয়া করার চেষ্টা করছে। এবং ব্যর্থ হয়ে হতাশ এবং হিংস্র হয়ে উঠছে।

এসব দেখে তারা বিভ্রান্ত হয়ে গেলেন। সিদ্ধান্ত নিলেন আরেকটু পরীক্ষা করার। বিজ্ঞানী দুইজন খুজে খুজে আরও চারটি বিয়ারের বোতল বের করলেন। তারপর খোলা মাঠে তা রেখে দিলেন। ৩০ মিনিটের মধ্যেই সেখানে দুইটি বোতলে ছয়টি মৌমাছি এসে বসলো। সবাই ছিলো সোনালি রঙের অস্ট্রেলিয়ান জুয়েল মৌমাছির প্রজাতি। তারা ততক্ষন পর্যন্ত সরছিলো না যতক্ষণ না পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা তাদের সরিয়ে দিলেন। যেটা বিজ্ঞানীদের সবচেয়ে বেশি অবাক করেছিলো সেটা হচ্ছে, বিয়ার তাদের আকর্ষণ করছে না।

কারন, বোতলগুলো দীর্ঘদিন ধরেই শুকনো ছিলো। এরপরে তারা অস্ট্রেলিয়ান জুয়েল মৌমাছি নিয়ে গবেষণা করলেন, আর তখনই পুরুষ মৌমাছির এমন আচরণের কারনটা বেরিয়ে আসলো। মহিলা জুয়েল মৌমাছির রঙ সোনালী বাদামী। তারা পুরুষ মৌমাছি থেকে অনেক লম্বা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিলো, তাদের শরীরে ছিলো ছোট ছোট অসংখ্য ডিম্পল। সেসময় অস্ট্রেলিয়ার বিয়ার বোতলগুলোও ছিলো বড় সোনালী রঙের। এর ডিজাইন ছিলো স্ত্রী মৌমাছির যৌনাঙের মতোই। তাই পুরুষ মৌমাছিগুলো বিভ্রান্ত হয়ে বিয়ারের বোতলের সাথে যৌনক্রিয়া করার চেষ্টা করছিলো।

এমন ঘটনাকে বিজ্ঞানীরা বলেন, ” বিবর্তনের ফাদ”। কোনও কাজ যখন প্রানীরা প্রাকৃতিকভাবে করার চেষ্টা করে, কিন্তু মানুষের আবিষ্কার তাদের বিভ্রান্ত করে, তাকেই বিবর্তনের ফাদ বলে। যেমন, সামুদ্রিক কচ্ছপ ডিম ছাড়ার জন্য সৈকতে আসে। ডিম ছাড়ার পর চাঁদ দেখে তারা সমুদ্রে ফিরে যায়। তবে বর্তমানে হোটেলগুলোর বড় বড় লাইটের কারনে কচ্ছপরা বিভ্রান্ত হয়ে ভুল দিকে চলে যায়। আনন্দের ব্যাপার হচ্ছে, জুয়েল মৌমাছির গল্পের শেষটা সুন্দর।

যখন বিয়ার কোম্পানিগুলো জানতে পারে তাদের বোতলের ডিজাইন পুরুষ মৌমাছিদের বিভ্রান্ত করছে, স্ত্রী মৌমাছির জায়গায় কাচের বোতলে যৌনক্রিয়া করতে গিয়ে পুরা প্রজাতির প্রজনন হুমকিতে ফেলে দিচ্ছে, তখন তারা তাদের বিয়ারের বোতলের ডিজাইন পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নেন। তাদের বোতল থেকে ডিম্পলগুলো সরিয়ে নেন। এরপরে কোনও পুরুষ মৌমাছিকে আর বিয়ারের বোতলের প্রতি আকর্ষণবোধ করেনি।