free hit counter
জানা অজানা

হুয়াকাচিনা : মরুভূমির বুকে এক টুকরো স্বর্গ

মরীচিকা সম্পর্কে ধারণা আছে নিশ্চয়ই? মরুভূমির মধ্যে হাঁটতে হাঁটতে একসময় আপনার শরীরে ক্লান্তি এসে ভর করবে, আর সেসময়ই হয়তো দেখতে পাবেন সামনে পানির নহর বয়ে চলেছে। আপনি সুমিষ্ট ঠান্ডা পানির আশায় খানিকটা এগিয়ে যাবেন, কিন্তু কিছুদূর গিয়ে মনে হবে আপনার হাঁটার সঙ্গে পানির নহরও কিছুটা পিছিয়ে যাচ্ছে। এভাবে অনেকক্ষণ হাঁটার পর শেষ পর্যন্ত আপনি আর সেই পানির উৎসের খোঁজ পাবেন না। মনে হবে যেন আপনাকে ধোঁকা দেয়া হয়েছে। পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের জন্য এমনটা হয়ে থাকে, যেটা একজন বিজ্ঞানের ছাত্র হলে আপনার ভালোমতোই জানা থাকার কথা।

কিন্তু যদি এমন হয় যে, আপনি পানির নহর দেখতে পেলেন, সেই অনুযায়ী এগিয়েও গেলেন এবং দেখলেন আসলেই পানির নহর সেখানে? বিজ্ঞানকে ভুল প্রমাণ করার উপাদান পেয়ে খুশি হয়ে যেতে পারেন হয়তো। পেরুর মরুভূমিতে গিয়ে আপনি মরীচিকার বদলে বাস্তবেই এমন কিছুর সন্ধান পেতে পারেন, যেটি দেখলে আপনার চোখ কপালে উঠে যাবে।

মরীচিকা ; ছবি : Pinterest

দক্ষিণ আমেরিকার একটি প্রাচীন সভ্যতা। ধারণা করা হয় ইনকা সভ্যতার মানুষ, আমেরিকার অন্যান্য জাতির লোকদের মতই, বেরিং প্রণালী পার হয়ে এশিয়া থেকে, আমেরিকা মহাদেশে পা রেখেছিল। কালক্রমে নানাভাগে বিভক্ত হয়ে, এরা আমেরিকা মহাদেশের বিভিন্ন স্থানে বসতি স্থাপন করে।

পেরুর নাম শুনলেই আমাদের সামনে ভেসে ওঠে ইনকা সভ্যতার সবচেয়ে বড় নিদর্শন মাচু পিচ্চুর কথা। ১৯১১ সালে আমেরিকান ইতিহাসবিদ হিরাম বিংহামের মাধ্যমে আবিষ্কার করার আগপর্যন্ত আন্দিজ পর্বতমালার উপর অবস্থিত এই স্থাপত্যের কথা পৃথিবীবাসীর কাছে অজানা ছিল। শুধু মাচু পিচ্চুই নয়, রংধনু পাহাড় কিংবা নাজকা লাইন দেখার জন্যও প্রতিবছর লাখ লাখ পর্যটক ভীড় জমান লাতিন আমেরিকার এই দেশে।

১১০০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে এদের একটি দল দক্ষিণ আমেরিকার অন্দিজ পর্বতমালার পেরুর উচ্চভূমির দিকে চলে আসে এবং এখানকার কুজবেন নামক স্থানে বসতি স্থাপন করে। স্থানের নামানুসারে এদেরকে বলা হয় কেচুয়া জাতি। এরা এই অঞ্চলে জঙ্গল কেটে কৃষিভূমি উদ্ধার করে এবং চাষাবাদ করতে থেকে। এদের অন্যতম ফসল ছিল ভুট্টা এবং আলু। প্রাথমিক অবস্থায় এই জনগোষ্ঠী এই অঞ্চলে একটি রাজত্ব গড়ে তোলে।

কুজবেনে বসবাসের সময় এদের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং ধীরে ধীরে এদের বসবাসের এলাকা বৃদ্ধি পায়। এই সময় অন্যান্য ক্ষুদ্র গোষ্ঠীগুলোর সাথে কিছু যুদ্ধবিগ্রহ হলে, এরা প্রতিটি ক্ষেত্রেই জয়ী হয়। এই সকল যুদ্ধের সূত্রে এদের ভিতরের শ্রেষ্ঠ যোদ্ধারা সমাজে সম্মানিত এবং ক্ষমতাধর হয়ে উঠে। এরপর এই সকল যোদ্ধাদের সমর্থনে কেন্দ্রীয় নেতার উদ্ভব হয়েছিল ১২০০ খ্রিষ্টাব্দের আগেই। ধীরে ধীরে ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা এই ব্যক্তি কাপাক (capac) নামে অভিহিত হতে থাকে। উল্লেখ্য ইনকাদের ভাষায় কাপাক শব্দের অর্থ শাসক।

সেই হিসেবে হুয়াকাচিনা যেন পাদপ্রদীপের আলোয় না থাকা কোনো স্বল্পপরিচিত ঐতিহাসিক গুরুত্বহীন স্থান। মরুভূমির মাঝখানে এতে চমৎকার একটি গ্রাম, অথচ এর তেমন পরিচিতি নেই– এসব পর্যবেক্ষণ করলেই বিস্ময় জাগে। মরুভূমিপ্রেমী মানুষেরা পৃথিবীর যেসকল স্থানে অন্তত জীবনে একবার হলেও ভ্রমণ করতে চান, সেই স্থানগুলোর তালিকায় উপরের দিকে থাকার যোগ্য দাবিদার পেরুর হুয়াকাচিনা। মরুভূমিপ্রেমী না হলেও সমস্যা নেই, এই স্থানটির অপার্থিব সৌন্দর্য আপনাকে বিমোহিত করতে করবে– এই কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

মরীচিকা ; ছবি : Pinterest

দক্ষিণ আমেরিকার একটি প্রাচীন সভ্যতা। ধারণা করা হয় ইনকা সভ্যতার মানুষ, আমেরিকার অন্যান্য জাতির লোকদের মতই, বেরিং প্রণালী পার হয়ে এশিয়া থেকে, আমেরিকা মহাদেশে পা রেখেছিল। কালক্রমে নানাভাগে বিভক্ত হয়ে, এরা আমেরিকা মহাদেশের বিভিন্ন স্থানে বসতি স্থাপন করে।

পেরুর নাম শুনলেই আমাদের সামনে ভেসে ওঠে ইনকা সভ্যতার সবচেয়ে বড় নিদর্শন মাচু পিচ্চুর কথা। ১৯১১ সালে আমেরিকান ইতিহাসবিদ হিরাম বিংহামের মাধ্যমে আবিষ্কার করার আগপর্যন্ত আন্দিজ পর্বতমালার উপর অবস্থিত এই স্থাপত্যের কথা পৃথিবীবাসীর কাছে অজানা ছিল। শুধু মাচু পিচ্চুই নয়, রংধনু পাহাড় কিংবা নাজকা লাইন দেখার জন্যও প্রতিবছর লাখ লাখ পর্যটক ভীড় জমান লাতিন আমেরিকার এই দেশে।

১১০০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে এদের একটি দল দক্ষিণ আমেরিকার অন্দিজ পর্বতমালার পেরুর উচ্চভূমির দিকে চলে আসে এবং এখানকার কুজবেন নামক স্থানে বসতি স্থাপন করে। স্থানের নামানুসারে এদেরকে বলা হয় কেচুয়া জাতি। এরা এই অঞ্চলে জঙ্গল কেটে কৃষিভূমি উদ্ধার করে এবং চাষাবাদ করতে থেকে। এদের অন্যতম ফসল ছিল ভুট্টা এবং আলু। প্রাথমিক অবস্থায় এই জনগোষ্ঠী এই অঞ্চলে একটি রাজত্ব গড়ে তোলে।

কুজবেনে বসবাসের সময় এদের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং ধীরে ধীরে এদের বসবাসের এলাকা বৃদ্ধি পায়। এই সময় অন্যান্য ক্ষুদ্র গোষ্ঠীগুলোর সাথে কিছু যুদ্ধবিগ্রহ হলে, এরা প্রতিটি ক্ষেত্রেই জয়ী হয়। এই সকল যুদ্ধের সূত্রে এদের ভিতরের শ্রেষ্ঠ যোদ্ধারা সমাজে সম্মানিত এবং ক্ষমতাধর হয়ে উঠে। এরপর এই সকল যোদ্ধাদের সমর্থনে কেন্দ্রীয় নেতার উদ্ভব হয়েছিল ১২০০ খ্রিষ্টাব্দের আগেই। ধীরে ধীরে ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা এই ব্যক্তি কাপাক (capac) নামে অভিহিত হতে থাকে। উল্লেখ্য ইনকাদের ভাষায় কাপাক শব্দের অর্থ শাসক।

সেই হিসেবে হুয়াকাচিনা যেন পাদপ্রদীপের আলোয় না থাকা কোনো স্বল্পপরিচিত ঐতিহাসিক গুরুত্বহীন স্থান। মরুভূমির মাঝখানে এতে চমৎকার একটি গ্রাম, অথচ এর তেমন পরিচিতি নেই– এসব পর্যবেক্ষণ করলেই বিস্ময় জাগে। মরুভূমিপ্রেমী মানুষেরা পৃথিবীর যেসকল স্থানে অন্তত জীবনে একবার হলেও ভ্রমণ করতে চান, সেই স্থানগুলোর তালিকায় উপরের দিকে থাকার যোগ্য দাবিদার পেরুর হুয়াকাচিনা। মরুভূমিপ্রেমী না হলেও সমস্যা নেই, এই স্থানটির অপার্থিব সৌন্দর্য আপনাকে বিমোহিত করতে করবে– এই কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

ইনকা সভ্যতা; ছবি : Dailyhunt

হুয়াকাচিনা হচ্ছে পেরুর উপকূলীয় সেচুরা মরুভূমির মাঝখানে অবস্থিত একটি গ্রাম, যেখানে অনায়াসে কয়েকদিন সময় কাটিয়ে দিতে পারবেন আপনি। এই গ্রামে মাত্র একশো পঞ্চাশজনেরও কম সংখ্যক অধিবাসী বসবাস করে, যারা প্রায় সবাই পর্যটনব্যবসার সাথে কোনো না কোনোভাবে জড়িত। মরুভূমির মাঝখানে হলেও আবাসন নিয়ে কোন চিন্তা করতে হবে না আপনাকে, কারণ পর্যটকদের থাকার জন্য চমৎকার কিছু হোটেল ও রেস্টুরেন্ট আছে সেখানে। তবে মরুভূমিতে অবস্থানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে পানি, আর হুয়াকাচিনা গড়ে উঠেছে মূলত একটি ছোট প্রাকৃতিক জলাধারকে কেন্দ্র করে। তাই এখানে পানিজনিত কোনো সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে না আপনাকে।

আপনি চাইলে এখানে অবস্থিত জলাধারে সাঁতার কাটতে পারবেন কিংবা নৌকা নিয়েও বেরোতে পারবেন। সেচুরা মরুভূমির তপ্ত বালুপথ পাড়ি দিয়ে আসার পর যখন বিভিন্ন গাছের ছায়াঘেরা এই লেগুনা চোখের সামনে দৃশ্যমান হবে, তখন নিশ্চিতভাবেই আপনি এর সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে যাবেন। আসলে সেই ছোট্ট লেগুনাই হুয়াকাচিনা গ্রামের প্রাণ, এটিই পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ।

পেরুর অসাধারণ মরুভূমি মাঝখানে ডাউন বাগি গাড়ি ; ছবি : Visit Perú

হুয়াকাচিনাতে আপনি চমৎকার সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগ করতে পারবেন। বালির সাগর থেকে সূর্য উঠছে কিংবা বালির সাগরে সূর্য ডুবে যাচ্ছে, দূর থেকে বালুকারাশি চকচক করতে শুরু করেছে– এসব দৃশ্য আপনার চোখে প্রশান্তি এনে দেবে। তবে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মতো বিষয়গুলো পরিপূর্ণরূপে উপভোগের জন্য কোনো বালুর ঢিবির উপর উঠতে হবে আপনাকে। এছাড়া এখানকার প্রধান উপভোগ্য বিষয় হলো স্যান্ডবোর্ডিং। বাতাসের কারণে মরুভূমিতে বালু সরে গিয়ে কোনো কোনো স্থানে উঁচু ঢিবি তৈরি হয়। এই ঢিবিগুলোতে ওঠার পর কাঠ বা অন্যান্য কিছু দিয়ে তৈরি বোর্ডের মাধ্যমে নিচে নেমে আসা যায়। যদি ব্যাপারটি অনেকটি স্নোবোর্ডিংয়ের মতোই। বরফাচ্ছাদিত অঞ্চলে স্নোবোর্ডিংয়ের ক্ষেত্রে পায়ের নিচে যেমন স্নোবোর্ড থাকে, স্যান্ডবোর্ডিংয়ের ক্ষেত্রে মরুভূমিতে আপনাদের পায়ের নিচে তেমনি একটি স্যান্ডবোর্ড থাকবে। এছাড়াও হুয়াকাচিনা গ্রামের আশেপাশে মরুভূমিতে ঘুরে বেড়ানোর জন্য ‘ডিউন বাগি গাড়ি’ রয়েছে, যেগুলোতে চড়ে চমৎকার রাইড উপভোগ করা যায়।

মরুভূমির মাঝে এরকম একটি গ্রাম আসলে আশ্চর্যের বিষয়। প্রকৃতি আমাদের সামনে এতসব অনিন্দ্যসুন্দর সৃষ্টি তৈরি করে রেখেছে যে বিস্মিত না হয়ে উপায় নেই। আগেই বলা হয়েছে, পেরু বলতেই আমাদের সামনে মাচু পিচ্চু, নাজকা লাইন কিংবা রংধনু পাহাড়ের চিত্র ভেসে উঠলেও হুয়াকাচিনার কথা কখনোই মনে আসে না। আস্ত মরুভূমির মাঝখানে জলাধারসমেত একটি গ্রাম, যেখানে স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেয়ার পাশাপাশি চাইলে স্যান্ডবোর্ডিং কিংবা বাগি গাড়ির মাধ্যমে মরুভূমিতে চষে বেড়ানো– হুয়াকাচিনায় আসলে উপভোগের মতো আছে অনেক কিছুই।

সূত্র : রোয়ার মিডিয়া, এরিস্টোক্রেটিক