free hit counter
দেড়ফুটেরও বেশি বড় - আরশোলা না রাক্ষস
জানা অজানা

দেড়ফুটেরও বেশি বড় – আরশোলা না রাক্ষস?

তেলাপোকা বা আরশোলা (গ্রামে তেলচুরা নামে অধিক পরিচিত) হল ব্লাটোডা পর্বের পোকা, যাতে উই পোকারাও আছে। মানুষের বাসস্থানের সাথে সম্পর্কিত আছে এমন তেলাপোকার প্রজাতি রয়েছে ৪৬০০ প্রজাতির মধ্যে প্রায় ৩০টি।্রায় চারটি প্রজাতিকে ক্ষতিকর হিসেবে ধরা হয়।

তেলাপোকা এক ধরনের ক্ষতিকর পোকা। যাবতীয় ময়লা আবর্জনা ও অন্ধকারে বাস, সহজে অভিযোজন করতে পারে বলে এরা পাঁচ কোটিরও বেশি বছর যাবৎ টিকে আছে।

তেলাপোকারা বহু পুরনো দলভুক্ত পোকা, এদের প্রায় ৩২০ মিলিয়ন বছর পুরনো কার্বনিফেরাস যুগেও পাওয়া গিয়েছিল। তেলাপোকার পূর্বপুরুষদের মধ্যে বর্তমান তেলাপোকায় বিদ্যমান অভ্যন্তরিন ovipositor ছিল না। তেলাপোকা হল কিছু অংশে সাধারণ পোকার মতই যাদের বিশেষ চোষ্য মুখাংশ (এফিড বা অন্য সত্যিকার পোকার যেমন থাকে) নেই; বরং তাদের আছে চর্বন মুখাংশ যা প্রাচীন নিওপ্টিরান পোকার মত। এদের যততত্র দেখা যায় এবং তারা খুব কঠিন ধরনের পোকা। এরা যে কোন পরিবেশে টিকতে পারে যেমন মেরু অঞ্চলের ঠান্ডা থেকে শুরু করে ট্রপিকালের তীব্র উষ্ণ পরিবেশ। উষ্ণ অঞ্চলের তেলাপোকারা নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের চেয়ে আকারে বড় হয়।

তেলাপোকার সব থেকে পরিচিত প্রজাতি হল Periplaneta americana, যেটি প্রায় ৩ সে.মি. লম্বা, জার্মান তেলাপোকা, Blattella germanica প্রায় ১.৫ সেণ্টিমিটার লম্বা, এশিয়ান তেলাপোকাও দেড় সেমি লম্বা। বিলুপ্ত তেলাপোকা Carboniferous Archimylacris ও Permian Apthoroblattina এর থেকে কয়েকগুণ বড় ছিল। তেলাপোকাকে তাদের বিরক্তিকর স্বভাবের জন্য পেস্ট/ক্ষতিকর হিসেবে গণ্য করা হয়।

আরশোলা

কিছু প্রজাতি যেমন জার্মান গ্রেগারিয়াস তেলাপোকার বিস্তৃত সামাজিক গঠন রয়েছে যার মধ্যে রয়েছে একই বাসস্থান ব্যবহার, সামাজিক নির্ভরতা, তথ্য স্থানান্তর এবং আত্মীয় চিনতে পারা ইত্যাদি।

মানব সংস্কৃতিতে তেলাপোকার অস্তিত্ব অনেক পুরনো। সারা পৃথিবীতে তাদেরকে নোংরা ক্ষতিকর প্রানী হিসেবে দেখা হয়, যদিও বেশিরভাগ প্রজাতিই অহিংস এবং সারা পৃথিবীর বিভিন্ন পরিবেশে এদের বাস করতে দেখা যায়। দক্ষিণ আমেরিকার ইকুয়্যাদর দেশে আরশোলা বা তেলাপোকা কে দিয়ে দৌড়বাজি করানো হয়, এবং এটি এক ধরনের মনোরঞ্জক খেলা, native American দের জন্য। এর জন্য ইকুয়াদর্ কে Arthoproda দের স্বর্গরাজ্য বলে।

শ্রেনীকরণ এবং বিকাশ

ঊনবিংশ শতাব্দিতে একটি ধারনার কারণে বিজ্ঞানীরা মনে করেছিলেন যে তেলাপোকা প্রাচীন পোকার একটি দল থেকে উৎপন্ন হয়েছে যাদের ডেভোনিয়ান উৎপত্তি রয়েছে।[৩] ঐ সময়ে বাস করা তেলাপোকাগুলো বর্তমানগুলো থেকে ভিন্ন আকৃতির ছিল, কারণ তাদের লম্বা বহিঃ ওভিপোসিটর ছিল এবং তারা মেনটিস ও ব্লাটোডিয়ানের পূর্বপুরুষ ছিল। যেহেতু শরীর, পেছনের পাখনা এবং মুখাংশগুলো ফসিলরূপে বিভিন্ন সময়ের পাওয়া যায় নি তাই, যে ফসিগুলো পাওয়া গিয়েছিল তার সাথে আধুনিক তেলাপোকার সম্পর্ক বোঝা যায় নি বা বিষয়টি তখন বিতর্কিত ছিল। আধুনিক তেলাপোকা যাদের অভ্যন্তরিন ওভিপোজিটর রয়েছে তাদের ক্রেটাসিয়াস যুগের প্রথম দিক হতে দেখা যায়। সাম্প্রতিক একটি ফাইলোজেনেটিক বিশ্লেষনে দেখা যায় যে তেলাপোকারা কমপক্ষে জুরাসিক যুগ থেকে টিকে আছে।[৩]

বসবাস এবং বন্টন

সারা বিশ্বেই এদের খুজে পাওয়া যায় এবং তারা সকল পরিবেশেই বেচে থাকে বিশেষ করে উষ্ণ পরিবেশে। এরা অত্যন্ত ঠান্ডা পরিবেশেও বেচে থাকতে পারে, যার ফলে এদের আর্কটিক অঞ্চলেও দেখা যায়। কিছু প্রজাতি আবার −১৮৮ °F (−১২২ °C) বেচে থাকতে পারে। এত নিম্ন তাপমাত্রায় বাচার জন্য তারা গ্লাইসিরল দিয়ে নিজেদের তৈরি করে। উত্তর আমেরিকায় ৫০ প্রজাতির তেলাপোকা রয়েছে যাদের আবার ৫টি পরিবারে ভাগ করা হয়েছে যাদের পুরো মহাদেশে পাওয়া যায়।অস্ট্রেলিয়া ৪৫০ প্রজাতি রয়েছে। শুধুমাত্র বড় চারটি প্রজাতিকেই ক্ষতিকর হিসেবে গন্য করা হয়।

এরা অনেক জায়গায় বাস করে গাছের পাতায়, সবজির পাকানো কান্ডে, পচা কাঠে, কুদার গর্তে, বাকলের নিচে, কাঠের স্তুপের নিচে এবং ধ্বংসাবশেষে। কিছু প্রজাতি আবার শুষ্ক পরিবেশে বাস করে এবং জল ছাড়া বাচার পদ্ধতি অভিযোজন করে নিয়েছে। অন্যগুলো জলজ, জলের উৎস আছে এমন জায়গার কিনারে বাস করে। জলজ তেলাপোকারা খাদ্যের জন্য পানির উপরিভাগ ভেদ করে তাদের শরীরের অগ্রভাগ দিয়ে যা চোষক হিসেবে কাজ করে, কিন্তু কিছু আবার তাদের থোরাসিক ঢালের নিচে বাতাস ধরে রেখে ডুব দেয়। অন্যগুলো বনের শামিয়ানায় বাস করে সম্ভবত তারাই সেখানে বসবাস করে এমন অমেরুদন্ডি প্রানী। তারা দিনের বেলা ফোকরে, মরা পাতার নিচে, পাখি বা কীটের বাসা বা পরাশ্রয়ী উদ্ভিদে লুকিয়ে থাকে, রাতে খাদ্যের সন্ধানে বের হয়।

দেড়ফুটেরও বেশি বড় – আরশোলা না রাক্ষস, কাঠের মতো শক্ত দেহে রয়েছে ৭ জোড়া ঠ্যাং!!

আকারে দেড়ফুটেরও বেশি বড়। সঙ্গে কিলবিল করছে ৭জোড়া ঠ্যাং। এটা একটা ‘আরশোলা’ না দৈত্য! দেখে ভয়ে গা শিরশির করে উঠতে পারে। এরকমই এক আজব প্রাণীর সন্ধান মিলল ঘরের কাছেই, ভারত মহাসাগরের তলদেশ থেকে। সিঙ্গাপুর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা উপকূলে গভীর সমুদ্রের ১৪ দিন ধরে অভিযান চালানোর সময়ই এই ভয়ঙ্কর দেখতে প্রাণীটি আবিষ্কৃত হয়।বস্তুত, মানুষ চাঁদ পর্যন্ত পারি দিয়ে ফেললেও গভীর সমুদ্রের তলদেশে এখনও অনেক বিস্ময় লুকিয়ে রয়েছে মানুষের জন্য। বেশিরভাগটাই অজানা। এই অজ্ঞাত জগৎ সম্পর্কে সম্মক ধারণা তৈরির উদ্দেশ্যেই সিঙ্গাপুরের গবেষক দলটি ২০১৮ সালে ১৪ দিন ধরে ভারত মহাসাগরের গভীরে অনুসন্ধান চালিয়েছিলেন। ১৪ দিনের সেই অভিযানে পাওয়া গিয়েছিল ১২,০০০-এরও বেশি নতুন গভীর সামুদ্রিক প্রাণী। যার মধ্যে একটি হল এই বিশালাকার আরশোলা। সম্প্রতি একে নতুন একটি প্রজাতি হিসাবে চিহ্নিত করে এর নাম দেওয়া হয়েছে, ‘বাথিনমাস রাক্ষস’। ‘বাথিনমাস’ একটি গভীর সমুদ্রের ‘ক্রাস্টাসিয়ান’ গোত্রের প্রাণী। ‘ক্রাস্টাসিয়ান’ মানে এদের গা কঠিন আবরণযুক্ত। গবেষকরা জানিয়েছেন এরা আকারে ২০ ইঞ্চি বা ৫০ সেন্টিমিটার অবধি বাড়তে পারে। এখনও পর্যন্ত এরাই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম আইসোপড অর্থাৎ, কঠিন আবরণযুক্ত বহুপদী প্রাণী।

দেড়ফুটেরও বেশি বড় - আরশোলা না রাক্ষস?

আরশোলার সঙ্গে সাদৃশ্য থাকায় এদের ‘সামুদ্রিক আরশোলা’ বলা হলেও এই ১৪ পায়ের প্রাণীগুলি আসলে কাঁকড়া কিংবা চিংড়ির মতো অন্যান্য সামুদ্রিক পরিবার সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। সমুদ্রের তলদেশে হেঁটে বেড়ায়। দেখতে ভয়াবহ হলেও এরা এমনিতে খুবই নিরিহ। মৃত সামুদ্রিক প্রাণীর দেহাবশেষই এদের খাদ্য। তবে দীর্ঘ সময় এরা কোনও খাদ্য ছাড়াই বেঁচে থাকতে পারে। স্বাভাবিকভাবেই এই আবিষ্কারটি সোশ্যাল মিডিয়ায় সাড়া ফেলে দিয়েছে। সকলেই প্রাণীটিকে দেখে বেশ ভয় পেয়েছেন বলেই জানিয়েছেন। এর মাথা এবং যৌগিক চোখ-এর জন্য স্টার ওয়ার্স-এর ‘ডার্থ ভেডার’ চরিত্রটির সঙ্গেও ‘বাথিনমাস রাক্ষস’-এর দারুণ মিলল খুঁজে পেয়েছেন অনেক নেটিজেন। ইন্দোনেশিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সেসের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, নতুন প্রজাতির আবিষ্কারটি আকার এবং যে ইকোসিস্টেমে তাকে পাওয়া গিয়েছে তা জীববিজ্ঞানের গবেষণায় বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

সমুদ্র আরশোলা, ভারত মহাসাগরে মিলল ১৪ পায়ের কিম্ভুত নয়া প্রজাতি!

এই সমুদ্র আরশোলা সাধারণত সবচেয়ে বেশি বড় হয় ৩৩ সেন্টিমিটার। প্রথমে ২০১৮ সালে ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা এলাকায় এই প্রাণিটিকে প্রথম পাওয়া গিয়েছিল। এ মাসে প্রায় দুবছরের গবেষণার পর সিঙ্গাপুরোর গবেষকেরা এই প্রাণিটিকে একটি নতুন প্রাণির আবিষ্কার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

হাইলাইটস

বানটানে ভারত মহাসাগরের একটি অংশে দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে এমন নয়া প্রজাতির প্রাণিটিকে খুঁজে পেয়েছেন গবেষকেরা। পশ্চিম অ্যাটলান্টিক মহাসাগরে ৩৩ সেন্টিমিটারের সমুদ্র আরশোলা অসংখ্য রয়েছে।
প্রথমে মনে হয়েছিল, জীবটি যেন মাথায় হেলমেট পরে রয়েছে। যেন স্টার ওয়ারের চরিত্র ডার্থ ভাদার।

বাংলা ডায়েরি ডেস্ক :আরশোলাও যে এমন অদ্ভুত চেহারা নিতে পারে তা না দেখলে বিশ্বাস করা মুশকিল। মহাসারের বুক থেকে উঠে এসেছে এই দানবীয় বিশালাকার আরশোলা। বানটানে ভারত মহাসাগরের একটি অংশে দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে এমন নয়া প্রজাতির প্রাণিটিকে খুঁজে পেয়েছেন গবেষকেরা। প্রথমে ২০১৮ সালে ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা এলাকায় এই প্রাণিটিকে প্রথম পাওয়া গিয়েছিল। দেখে প্রথমে মনে হয়েছিল, জীবটি যেন মাথায় হেলমেট পরে রয়েছে। যেন স্টার ওয়ারের চরিত্র ডার্থ ভাদার।

দেড়ফুটেরও বেশি বড় - আরশোলা না রাক্ষস?

এ মাসে প্রায় দুবছরের গবেষণার পর সিঙ্গাপুরোর গবেষকেরা এই প্রাণিটিকে একটি নতুন প্রাণির আবিষ্কার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। নাম দেওয়া হয়েছে, ‘বাথিনোমাস রাক্ষসা’। একটি বিশালাকার সমুদ্র আরশোলা। গত ৮ জুলাই বিজ্ঞানী-গবেষকেরা এই নয়া প্রজাতি সম্পর্কে তাঁদের রিপোর্ট পেশ করেছেন। বায়োডাইভারসিটি রিসার্চ জার্নাল ‘জুকিজ’-এ এটি প্রকাশিত হয়েছে। এই জার্নাল যে কেউ পড়তে পারেন। পেপারের লেখক কোন্নি এম সিদাবালক, হেলেন পি এস উওং এবং পিটার কে এল এনজি লিখেছেন, ‘ইন্দোনেশিয়ার শব্দ রাক্ষস ব্যবহার করা হয়েছে এর দানবীয় রূপের জন্য।’ যাঁরাই এই নতুন প্রজাতির আরশোলাটিকে দেখেছেন, তাঁরাই একে রাতের ভয়ানক স্বপ্নের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

কতটা ভয়ংকর এই সমুদ্র আরশোলা?

বাথিনোমাস রাক্ষসা এক ধরনের বিশালাকার জীব। বাথিনোমাস প্রজাতির এই জীবের শরীরে প্রায় ২০ ধরনের স্পিসিজ রয়েছে। কাঁকড়া, লবস্টার এবং স্রিম্প জাতীয় প্রাণির সঙ্গে এর মিল রয়েছে। এগুলি এক ধরনের মাংসাশী জলের পোকা। খুব শীতল স্থানে মহাসাগরের বুকে এগুলির বাস। পাওয়া যায় প্রশান্ত, অ্যাটলান্টিক ও ভারত মহাসাগরে। এই সমুদ্র আরশোলার ১৪টি পা রয়েছে। সমুদ্রের গর্ভে এই পা চালিয়েই খাবারের খোঁজ চালায় এরা। আরশোলার মতোই এদের মাথায় হেলমেটের মতো বস্তু থাকে, সেখানেই থাকে একাধিক চোখ।

৫০ সেন্টিমিটার (১.৬ ফুট) আকারের এই সমুদ্র আরশোলা সাধারণত সবচেয়ে বেশি বড় হয় ৩৩ সেন্টিমিটার। একটা পায়ের পাতার মাপের। ৫০ সেন্টিমিটারেরগুলি বিশাল দানবীয়। সেগুলির পরিমাণ কম। পশ্চিম অ্যাটলান্টিক মহাসাগরে ৩৩ সেন্টিমিটারের সমুদ্র আরশোলা অসংখ্য রয়েছে।এই গোটা প্রজেক্টটিতে কাজ করেছেন ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সিঙ্গাপুর, রিসার্চ সেন্টার ফৎ ওশানোগ্রাফি এবং ইন্দোনেশিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সেসের গবেষকরা। দু-সপ্তাহ ধরে প্রায় ৬৩টি জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছেন তাঁরা। ১২ হাজার নমুনা সংগ্রহ করেছেন। সমুদ্রের গভীরে গিয়ে জেলিফিশ, স্পঞ্জ, কেঁচো, শামুক, স্টারফিশ, কাঁকড়ার মতো অসংখ্য ৮০০ ধরনের স্পিসিজ এনেছেন তাঁরা। এর মধ্যে ১২ ধরনের প্রজাতি একেবারেই অজানা গবেষকদের কাছে।

জানেন, দেড়ফুট লম্বা আরশোলার ১৪টা পা?

যদি বলি একেবারে নতুন এক প্রজাতির আরশোলার সন্ধান মিলল, আপনি কি অবাক হবেন? হতেই পারেন, যদি তার বর্ণনা শোনেন।

রান্নাঘরের আনাচে-কানাচে, কখনও বা বাথরুমের ফাঁকে দেখা মেলে তাদের। ডানা ফরফর করে না উড়লে ততটা আতঙ্ক লাগে না। কিন্তু সেই ছোটখাটো চেহারার আরশোলা যদি বিশাল রূপ নিয়ে সামনে এসে দাঁড়ায়? না না, এটা কাফকার ‘মেটামরফোসিস’-এর কোনও আধুনিক সংস্করণ নয়, বাস্তবে সত্যিই মিলেছে ১৪ পা বিশিষ্ট এই বিশালাকার আরশোলার খোঁজ, যা নাকি লম্বায় প্রায় দেড় ফুট!

তবে, স্বস্তির খবর একটাই। আমার বা আপনার ঘরে মোটেই তার দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। ভারত মহাসাগরের সেই কোন অতলে দিব্যি ছানাপোনা নিয়ে বেঁচে আছে তারা। বিজ্ঞানীদের রেডারে অবশ্য এই আরশোলার অস্তিত্ব এক্কেবারে নতুন আর তাই আকারের সঙ্গে মিলিয়ে তার নামটিও রাখা হয়েছে বেশ জবরদস্ত— ‘বাথিনোমাস রাক্ষস’। তবে, এ রাক্ষস নিতান্তই নিরীহ, মানুষ খাওয়ার কোনও আগ্রহ তার নেই। আর তাই চলুন, নিশ্চিন্তে তার ঠিকুজি-কোষ্ঠী একটু জেনে নিই।

সিঙ্গাপুরের একদল গবেষক বানতানে পূর্ব ভারত মহাসাগরের অতলে অজানা প্রাণিকুলের খোঁজ করতে গিয়েছিলেন। সেটা অবশ্য ২০১৮ সালে। ইন্দোনেশিয়ার জাভায় এই অভিযান চালিয়ে ১২,০০০-এরও বেশি সামুদ্রিক প্রাণীর সন্ধান পান তাঁরা। তার পর প্রায় বছর দু’য়েকের গবেষণার ফল প্রকাশিত হয় ২০২০-এর ৮ জুলাই, জীববৈচিত্র্য সংক্রান্ত গবেষণা পত্রিকা ‘জুকিজ’-এ। আর সেখানেই নামকরণ হয় সামুদ্রিক এই বিশালাকার আরশোলার।
কোনি এম সিদাবালক, হেলেন পিএস ওং এবং পিটার কে এল এনজি-র লেখা গবেষণাপত্র বলছে, বিশালাকার এই আইসোপডের সঙ্গে কাঁকড়া, গলদা চিংড়ি, কুচো চিংড়ির প্রজাতির কিছুটা সংযোগ রয়েছে কিন্তু এই আরশোলার বিশেষত্ব তার বিরাটাকারে! তবে, শুধু ভারত মহাসাগর নয়, প্রশান্ত, আটলান্টিক মহাসাগরের তলদেশেও দেখা মেলে এই বিশালদেহীর।

দেড়ফুটেরও বেশি বড় - আরশোলা না রাক্ষস

এদের ১৪টা পা আছে বটে, কিন্তু সেটার কাজ শুধু সমুদ্রের নীচের বালিতে হামাগুড়ি দিয়ে খাবার খোঁজা। তবে, নরম শরীরটার উপর বিশালাকার বর্মটাই এই রাক্ষস আরশোলার চেহারার মূল আকর্ষণের বস্তু। হঠাৎ দেখলে মধ্যযুগের সেই ‘নাইট’ যোদ্ধাদের কথাও আপনার মনে পড়তে পারে!

বিশালাকার বর্মে ঢাকা আরশোলাটির দৈর্ঘ্য কম করে ৫০ সেন্টিমিটার (১.৬ ফুট) তো হবেই! মনে মনে হিসেব কষছেন তো? দাঁড়ান, আপনাদের একটু সাহায্য করি। বাড়ির আনাচে কানাচে যে পূর্ণবয়স্ক আরশোলা আমরা দেখি সেগুলোর দৈর্ঘ্য খুব বেশি হলে ৪ সেন্টিমিটার হতে পারে। এ বার নিজেরাই আকারের ফারাকটা বুঝে নিন! আইসোপড প্রজাতির প্রাণী সাধারণত ৩৩ সেন্টিমিটারের বেশি হয় না। সেই হিসেবে এটি রাক্ষসের আকারই বটে!

গবেষকদের ৩১ সদস্যের এই দল দু’সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ৬৩টি জায়গায় ড্রেজিং করে ১২,০০০ নমুনা সংগ্রহ করে এনেছে। তার মধ্যে জেলিফিশ থেকে শুরু করে স্পঞ্জ, নানা ধরনের পোকামাকড়, কাঁকড়া, স্টারফিশ— কী নেই! এগুলোর সব মিলিয়ে ৮০০টি প্রজাতিভুক্ত, যার মধ্যে ১২টি প্রজাতির সন্ধান বিজ্ঞানীদের কাছে এক্কেবারে নতুন!

সাধে কি বলে, অতল গহিনে কী কী রহস্য না জানি লুকিয়ে আছে! আচ্ছা, সবই তো হল, কিন্তু বিরাটাকার এই আরশোলা খায় কী? গবেষণা বলছে, সব ধরনের সামুদ্রিক প্রাণীর দেহাবশেষ খেতে এরা সিদ্ধহস্ত। তবে, সাধারণ আরশোলার মতো এরাও দীর্ঘদিন না খেয়ে বাঁচতে পারে। আপনার-আমার ঘরের মতোই সমুদ্রের নীচেও এরা মনের সুখে বংশবৃদ্ধি করে চলে। আর এদের খাদকের সংখ্যা যেহেতু কম, ফলে বংশ তাহাদের বেড়েই চলে, বেড়েই চলে!

কিন্তু লোকে যে বলে মানুষ সর্বভুক? তারাও কি পেলে এই আরশোলা খাবে না?

গবেষকদের দাবি, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বেশ কিছু জায়গায় কিছু কিছু আইসোপডকে খাওয়া হয় বটে, কিন্তু এই রাক্ষস আরশোলার খোলসই সর্বস্ব! নাইটদের মতো সেই বিশালাকার বর্ম খুললে মাংস যেটুকু মিলবে, তাতে শিকারিদের খাটনি পোষাবে না!

আর তাই, মনের আনন্দে সমুদ্রের নীচে সংসার পাতে তারা। বেড়ে চলে সংসার।