free hit counter
জানা অজানা

আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত কি এবং কেন হয়?

আগ্নেয়গিরি হলো বিশেষ ধরনের পাহাড় যার ভেতর দিয়ে ভূ-অভ্যন্তরের উত্তপ্ত ও গলিত পাথর, ছাই এবং গ্যাস বেরিয়ে আসতে পারে। এটি একটি ভৌগোলিক প্রক্রিয়া। কোনো কোনো ফাটল বা ছিদ্রপথ দিয়ে ভূগর্ভস্থ গরম বাতাস, জলীয় বাষ্প, গলিত শিলা, কাদা, ছাই, গ্যাস প্রবল বেগে বেরিয়ে আসে। নির্গত এই সকল পদার্থ ভূপৃষ্ঠের শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে দ্রুত ঠান্ডা হয়ে কঠিন আকার ধারণ করে যার কিছুটা ফাটলের চারপাশে এসে ধীরে ধীরে জমা হয়ে মোচাকৃতি আকার ধারণ করে। তখন একে “আগ্নেয়গিরি” বলে। আগ্নেয়গিরি থেকে ভূগর্ভস্থ পদার্থের নির্গমনকে বলা হয় অগ্ন্যুৎপাত। আগ্নেয়গিরির বহিঃস্থ যে মুখ বা নির্গমনপথ দিয়ে অগ্ন্যুৎপাত ঘটে, তাকে জ্বালামুখ বলে। প্রতি বছর প্রায় ৬০টি আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত ঘটে

আগ্নেয়গিরি অগ্ন্যুৎপাত এর সময় নির্গত লাভা, ছাই, গ্যাস এর ধরনের উপর নির্ভর করে অগ্নুৎপাতকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়েছে ।

১.ম্যাগমাটিক অগ্ন্যুৎপাত।
২.প্রিটোম্যাগমেটিক অগ্ন্যুৎপাত।
৩.প্রিয়াটিক অগ্ন্যুৎপাত।

★তিনটি মূল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত হয়ে থাকে।

➣ভূগর্ভস্থ গ্যাসের চাপ কমে গ্যাস নির্গত হওয়ার মাধ্যমে ম্যাগমাটিক অগ্নুৎপাত হয়।
সংকোচিত গ্যাস বিস্ফোরনের মাধ্যমে ম্যাগমাটিক অগ্নুৎপাতে গলিত লাভা উদগীরন করে। অপেক্ষাকৃত ছোট উদগীরন এর প্রবলতা হয় প্রায় ৩০ কিঃমিঃ উচু হয়ে থাকে। যেটি খ্রিস্টপূর্ব ৭৯ সালে পম্পেই নগরী ধংসকারী মাউন্ট ভিসুভিয়াস এর উদগীরন এর চেয়ে বেশি। কিছু

➣তাপীয় সংকোচনের ফলে প্রিটোম্যাগমাটিক অগ্নুৎপাত হয়।
যে অগ্নুৎপাত পানি ও লাভার মধ্যকার পারস্পরিক ক্রিয়ার মাধ্যমে সৃষ্টি হয় তাকে প্রিটোম্যাগমেটিক অগ্নুৎপাত বলে। তাপ সংকোচনের কারণে এমন ঘটে থাকে। কিছু প্রিটোম্যাগমেটিক আগ্নেয়গিরি:

➣বাষ্পীয় উদগিরনের সময় নির্গত ধাতব কনার ফলে প্রিয়াটিক অগ্নুৎপাত হয়।
আগ্নেয়গিরির উৎপত্তির কারণ হচ্ছে ভূগৰ্ভত থাকা জলীয় বাষ্প ও অন্যান্য বাষ্পের প্ৰচণ্ড চাপ৷ পৃথিবীর কোনো ভিতরের বা মাঝের ভূগৰ্ভতলে পানীসমূহ গলে ভূগৰ্ভের উত্তাপে সেই পানী বাষ্পে পরিণত হয় ও আয়তন বাড়ে৷ এভাবে আয়তন বাড়ার ফলে অভ্যন্তর ভাগে প্ৰচণ্ড চাপের সৃষ্টি হয়৷ ফলে গলিত পদাৰ্থসমূহের জলীয় বাষ্প ও অন্যান্য বাষ্প চাপের ফলে ভূ-পৃষ্ঠের উপরের উঠে আসে ৷

আগ্নেয়গিরির প্ৰকার:

১। জাগ্ৰত (Active)
২। সুপ্ত (Dorment)
৩। লুপ্ত (Extinct)

(জাগ্ৰত আগ্নেয়গিরি):
যেসব আগ্নেয়গিরির মুখে সদায় নিয়মিত ভাবে ধোঁয়া,ছাই,গলিত লাভা, গ্যাস থাকে,সেসকল আগ্নেয়গিরিকে জাগ্ৰত আগ্নেয়গিরি বলে৷ যেমন -ছিছিলব মাউণ্ট এটনা ৷ জাগ্ৰত আগ্নেয়গিরিকে আবার দুইভাগে ভাগ করা যায় -সবিরাম ও অবিরাম আগ্নেয়গিরি৷ যেসকল জাগ্ৰত আগ্নেয়গিরিতে অবিরামভাবে লাভা নিৰ্গত হয়ে থাকে তাকে অবিরাম আগ্নেয়গিরি ও যেসকল এটা নিৰ্দিষ্ট সময়ের অন্তরালে ধোঁয়া,ছাই, গ্যাস বের হয়ে আসে সেসকল আগ্নেয়গিরিকে অবিরাম আগ্নেয়গিরি বলা হয়৷ ইটালীর ষ্ট্ৰম্বলী আগ্নেয়গিরি এ ধরনের আগ্নেয়গিরি

(সুপ্ত আগ্নেয়গিরি):
যেসকল আগ্নেয়গিরির আগে উদগীরণ হয়েছিল,কিন্তু বৰ্তমানে সক্ৰিয় অবস্থায় নেই ,কিন্তু যেকোন সময় উদ্গীরণ হবার সম্ভাবনা আছে,সেসব আগ্নেয়গিরিকে সুপ্ত আগ্নেয়গিরি বলে৷ যেমন – জাপানের ফুজি পর্বত ৷

(লুপ্ত আগ্নেয়গিরি):
যেসসব আগ্নেয়গিরি কোন এক সময় জাগ্ৰত ছিল কিন্তু আগামীতে বা ভবিষ্যতে এর অগ্ন্যুৎপাত হবার কোনো সম্ভাবনা নাই,সেসকল আগ্নেয়গিরিকে লুপ্ত আগ্নেয়গিরি বলা হয়৷ যেমন – আফ্ৰিকার কিলিমাঞ্জারো ৷ কখনো কখনো লুপ্ত ও সুপ্ত আগ্নেয়গিরির মুখে জল জমা হয়ে একটা হ্ৰদের সৃষ্টি হয়৷ একে ধরণের হ্ৰদকে আগ্নেয়গিরি হ্ৰদ বলে৷

কিছু জীবন্ত আগ্নেয়গিরির নাম:

❂ইতালির ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরি – সর্বশেষ অগ্নুৎপাত ১৯৪৪ সালে;
❂জাপানের সাকুরাজিমা আগ্নেয়গিরি- ছয় বছর ধরে নিয়মিত অগ্ন্যুৎপাত ঘটছে;
❂কঙ্গোর নিইরাগঙ্গো আগ্নেয়গিরি- ২০০২ সালে শেষ অগ্নুৎপাত ঘটে;
❂হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের মউনা লোওয়া আগ্নেয়গিরি – এটি থেকে প্রায় সারা বছরই লাভার উদগীরণ হয়;
❂গুয়াতেমালার সান্তা মারিয়া আগ্নেয়গিরি – ১৯০২ সালে সর্বশেষ অগ্নুৎপাত হয়;
❂ইন্দোনেশিয়ার মাউন্ট সিনাবুং আগ্নেয়গিরি – ২০২১ সালের মার্চ মাসে অগ্ন্যুৎপাত ঘটে; যদিও পূর্বাভাস থাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নগন্য।
❂গুয়াতেমালার ফুয়েগো আগ্নেয়গিরি – ২০১৮ সালের জুন মাসে সর্বশেষ অগ্ন্যুৎপাত ঘটে;
সর্বশেষ ইন্দোনেশিয়র জাভা দ্বীপে মাউন্ট সেমেরু আগ্নেয়গিরি থেকে ৪ ডিসেম্বর ২০২১ অগ্ন্যুৎপাত থেকে ৩৪ জনের প্রাণহানি ঘটে;