কিংবদন্তি বাংলাদেশি দাবা রানী রানী হামিদ আবারো শিরোপার স্বাদ নিতে বয়সকে হার মানলেন। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত মহিলা জাতীয় দাবা লীগে তার দল আনসার বাংলাদেশ ও ভিডিপি অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
৮২ বছর বয়সী এই আন্তর্জাতিক শিক্ষক শুধু টুর্নামেন্টেই অংশগ্রহণ করেননি, দলের জয়ে সক্রিয় ভূমিকাও পালন করেছেন। আনসার পার্টিতে রানী হামিদ ছাড়াও অংশ নেন নুশরাত জাহান আলো, শারমিন সুলতানা শিরীন, জান্নাত আল ফেরদৌস, নীলাভা চৌধুরী ও উমনিয়া বিনতে ইউসুফ লাবাবা। এই সাফল্যের মধ্য দিয়ে রানী হামেদ প্রমাণ করলেন, ইচ্ছাশক্তি ও মানসিক দৃঢ়তা থাকলে খেলাধুলার পথে বয়স কোনো বাধা হতে পারে না।
টুর্নামেন্টের পয়েন্ট টেবিলে আনসার বাংলাদেশ, ভিডিপি ও বাংলাদেশ নৌবাহিনী- দুই দলই ৭ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে অপরাজিত রয়েছে। যেহেতু দুই দলের সমান ম্যাচ পয়েন্ট, তাই ম্যাচ পয়েন্টের ভিত্তিতে শিরোপা নির্ধারণ করা হয়। এখানে বাংলাদেশ আনসার দল ২৪ ম্যাচ পয়েন্ট পেয়ে টুর্নামেন্ট জিতে কৃতিত্ব দেখায়।<\/span>“}”>
অন্যদিকে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ২২ দশমিক ৫ পয়েন্ট নিয়ে রানার আপ ট্রফি জিতেছে। দলটির প্রতিনিধিত্ব করেন রানার্সআপ আহমেদ ওয়ালেজা, ধিফা আহমেদ, নওশীন আঞ্জুম, ওয়ার্শিয়া খুশবু এবং কাজী জারিন তাসনিম। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দুই দলের লড়াই ছিল খুবই উত্তেজনাপূর্ণ।
শিরোপা জয়ের পর অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে রানী হামেদ বলেন, ৮২ বছর বয়সে এমন প্রতিযোগিতামূলক লিগে খেলা তার জন্য অনেক স্বস্তির। তিনি টুর্নামেন্টে চারটি উপস্থিত ছিলেন এবং দলের সার্বিক সাফল্যে অবদান রাখতে পেরে খুশি।
গত মৌসুমে তিনি বাংলাদেশ পুলিশের হয়ে খেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন এবং এবারও আল আনসারের সাথে এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। এমন একটি বয়সে যখন অনেকেই অবসর নেওয়ার কথা ভাবছেন, রানী হামেদ বলেছেন যে তিনি আগামী ফেব্রুয়ারিতে 83 বছর বয়সী হবেন এবং তিনি তার সুস্থতা ফিরে না আসা পর্যন্ত দাবাবোর্ড ছেড়ে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন না।
রানী হামিদের দীর্ঘস্থায়ী ক্রীড়া ক্যারিয়ার বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের ক্রীড়াবিদদের জন্য অনুপ্রেরণার একটি বড় উৎস। শরীর ও মন সচল থাকলে যে কোনো বয়সেই সাফল্য যে সম্ভব, তা তিনি বারবার প্রমাণ করেছেন।
নিয়মিত অনুশীলন এবং খেলাধুলার প্রতি অগাধ ভালোবাসাই তাকে এই বয়সেও সর্বোচ্চ পর্যায়ে পারফর্ম করার শক্তি জোগায়। রানী হামিদ স্থানীয় দাবা দৃশ্যে শুধু একটি নাম নয়, একটি জীবন্ত কিংবদন্তি হিসেবেও তার অবস্থানকে দৃঢ় করেছেন।

