নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে থাইল্যান্ডকে ৩৯ রানে হারিয়ে মূল পর্বে খেলার পথে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) নেপালের মুলাপানিতে খেলা এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে থাইল্যান্ডের মেয়েদের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে নেগ্রা সুলতানা জ্যোতির দল।
এই জয়ে বাংলাদেশের জন্য বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। শেষ দুই ম্যাচের যেকোনো একটিতে জিতলে সরাসরি বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে উঠবে লাল ও সবুজ প্রতিনিধিরা। বৃষ্টির কারণে ম্যাচ বাতিল হয়ে গেলে এবং পয়েন্ট অর্জন করলেও বাংলাদেশ বিশ্বকাপের টিকিট পাবে।
ম্যাচের শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম বলে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার দিলারা আক্তার এবং মাত্র ১১ রানে আউট হন আরেক ওপেনার শারমিন আক্তার। তবে সেই বিপর্যয় কাটিয়ে তৃতীয় উইকেট জুটিতে ১১০ রানের দুর্দান্ত জুটি গড়ে দলকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যান জুইরিয়া ফেরদৌস ও শাবানা মুস্তারি।
এই জুটির ওপর ভর করেই বাংলাদেশ নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৬৫ রান করে। জুওয়ারিয়া 43 বলে 56 রানের একটি চমকপ্রদ ইনিংস খেলেন, যার মধ্যে ছিল 3টি চার ও 4টি ছক্কা। অন্যদিকে, শাবানা 42 বলে 59 পাস সংগ্রহ করেন, যার মধ্যে 9 চার এবং 1 ছক্কা ছিল।<\/span>“}”>
রিতুমনি মাত্র 6 বলে 15 রানের একটি কার্যকর ‘ক্যামিও’ ইনিংস খেলেন, যদিও অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি (6) বা স্বর্ণা আখতার (4) ইনিংসের শেষ পর্যন্ত পুঁজি করতে ব্যর্থ হন। এছাড়া রাবিয়া খান ৫ রান ও ফাহিমা খাতুন ১ রান করেন। জবাবে ১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে থাইল্যান্ডের মেয়েরা নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১২৬ রান তুলতে সক্ষম হয়। থাই ওপেনার নাথাকান চান্থাম 44 পয়েন্ট নিয়ে সর্বোচ্চ স্কোর করেন এবং নরুয়েমল চাইহাই 30 এবং নান্নাপাট কনচারোয়েনকাই (29) যোগ করেন। তবে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের বিপরীতে থাইল্যান্ডের আর কোনো ব্যাটসম্যানই দুই অঙ্কের ঘরের রান স্পর্শ করতে পারেননি।
বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন মারুভা ইসলাম, যিনি একা হাতে তিনটি উইকেট নেন। এছাড়া অলরাউন্ডার রিতোমনি ও স্বর্ণা আক্তার দুটি করে উইকেট নিয়ে থাইল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। অলরাউন্ডার ফাহিমা খাতুনও পেয়েছেন একটি উইকেট।
ডাবটের এই পারফরম্যান্সের পর বাংলাদেশ এখন টেবিলে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। বিশ্বকাপের মূল আসরে পৌঁছতে বাংলাদেশের আসন্ন ম্যাচগুলোর দিকে তাকিয়ে আছেন দেশের ক্রিকেট ভক্তরা। আগামী ম্যাচগুলোতে এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে সহজেই লক্ষ্য অর্জিত হবে বলে আশা করা যায়।

