দৃশ্যমাধ্যম সমাজের দিনব্যাপী কর্মসূচি ‘কইলজ্যা কাঁপানো ৩৬ দিন’
বিনোদন

দৃশ্যমাধ্যম সমাজের দিনব্যাপী কর্মসূচি ‘কইলজ্যা কাঁপানো ৩৬ দিন’

‘কইলজ্যা কাঁপানো ৩৬ দিন: জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও সাংস্কৃতিক নির্মাণ’ শিরোনামে কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে দৃশ্যমাধ্যম সমাজ। আগামী ২ আগস্ট বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে দিনব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল ১৩ জুলাই রোববার বেলা ১১টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার কনফারেন্স রুমে দৃশ্যমাধ্যম সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।

সম্মেলনে দৃশ্যমাধ্যম সমাজের পক্ষ থেকে লিখিত বিবৃতি দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, ‘ভয়হীন, ন্যায্য ও মানবিক মর্যাদার বাংলাদেশ’—এই মূলমন্ত্র ধারণ করে ২০২৪ সালের ১ আগস্ট রাজধানীর ফার্মগেটে দৃশ্যমাধ্যম সমাজের বিভিন্ন শাখার শিল্পীরা বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেন। সেখানে স্লোগান উঠেছিল ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’। ধর্ম-জাতি-মত-পরিচয়ের ঊর্ধ্বে গিয়ে শিল্পীদের ঐক্য ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রকাঠামোর ভীত নাড়িয়ে দিয়েছিল। ৩ আগস্ট শহীদ মিনারে ছাত্র-শ্রমিক-জনতার সমাবেশ থেকে এসেছিল এক দফার ডাক—‘স্বৈরাচারের পতন ও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ’। এরপর ছাত্র-শ্রমিক-জনতার বিপুল বিস্ফোরণে দীর্ঘ ১৬ বছরের স্বৈরাচারী ব্যবস্থার পতন ঘটে। ‘ভয়হীন, ন্যায্য ও মানবিক মর্যাদার বাংলাদেশ’—এই মন্ত্রে বলীয়ান হয়ে নাট্যকর্মী, আলোকচিত্রী, গায়ক, কবি, নির্মাতা—সবাই একত্র হয়েছিলেন। তাঁদের প্রতিরোধের অর্থ ছিল গণসংস্কৃতিকে ফের সংজ্ঞায়িত করা।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় রচিত হয়েছিল, যেখানে ছাত্র-জনতার সম্মিলিত কণ্ঠস্বর, প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধ নতুন পথ দেখিয়েছিল গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের অভিযাত্রায়। সেই ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘কইলজ্যা কাঁপানো ৩৬ দিন: জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও সাংস্কৃতিক নির্মাণ’ শিরোনামে দৃশ্যমাধ্যম সমাজের সাংস্কৃতিক সম্মিলনের আয়োজন করা হচ্ছে। ২ আগস্ট বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে দিনব্যাপী এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচিতে থাকবে শহীদি মিছিল, লাইভ গ্রাফিতি, আলোচনা সভা, থিয়েটার পারফরম্যান্স, গান, কবিতা, ফ্যাসিবাদবিরোধী চলচ্চিত্র উৎসব, গণ-অভ্যুত্থানের ছবি, পোস্টার ও মিম প্রদর্শনী।

সম্মেলনে বক্তব্য দেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন; ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা এবং জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়। মূল বক্তব্য পাঠ করেন আকরাম খান, কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়, ফারিহা শামস সেওতি ও সরকার প্রতীক। কর্মসূচি ঘোষণা করেন জাহিন ফারুক আমিন ও ধ্রুব হাসান। সঞ্চালনায় ছিলেন তাসলিমা আখতার। সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন আজমেরী হক বাঁধন, তানিম নূর, শাহীন দিল-রিয়াজ, মুনেম ওয়াসিফ, ড. সামিনা লুৎফা, আসাদুজ্জামান আসাদ, তানহা জাফরিন, ড. আনন সিদ্দীকা, মুশফিকুর রহমান মঞ্জু, কৃষ্ণকলি ইসলাম, মোহাম্মদ আলী হায়দার, বিথী ঘোষ প্রমুখ।

আয়োজকেরা জানিয়েছেন, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমি, প্রেক্ষাপট ও ফলাফলকে স্মরণ ও বিশ্লেষণ করার পাশাপাশি দৃশ্যমাধ্যম সমাজের ভূমিকা তুলে ধরা। একই সঙ্গে দৃশ্যমাধ্যম সমাজকর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করা ও সাংস্কৃতিক সংগ্রামের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরা।

Source link

Related posts

৩২ বছর পর সিনেমায় সালমানের চুমু

News Desk

‘বলিউড’ নামটাই বদলে দিতে চান নওয়াজ!

News Desk

ছোট্ট জাহ্নবীর ছবি ভাইরাল নেট দুনিয়ায়

News Desk

Leave a Comment