Image default
বাংলাদেশ

চট্টগ্রামে জোড়া খুনের রহস্য উদঘাটন

চট্টগ্রামের চান্দগাঁও এলাকার জোড়া খুনের রহস্য উদঘাটন করেছে র‌্যাব। চাঞ্চল্যকর মা ও ছেলের খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত ফারুকে আটক করা হয়েছে। চান্দগাঁও ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী কমান্ডার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজের নেতৃত্বে একটি টিম তাকে আটক করে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে র‌্যাব-৭ চান্দগাঁও কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান, অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মশিউর রহমান জুয়েল।

এসময় ফারুকের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও একটি ছুরি উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে র‌্যাব। ফারুক বহদ্দারহাট খাজা রোডের কসাইপাড়া এলাকার মো. সিরাজের ছেলে।

র‌্যাব জানায়, ভোরে নগরের আকবর শাহ থানাধীন পাক্কার মাথা এলাকা থেকে ফারুককে আটক করা হয়। আটকের পর ফারুক র‌্যাবকে জানায়, রাগের মাথায় গুলনাহার বেগমকে খুন করেছে। সেই খুনের ঘটনা দেখে ফেলায় ছেলে রিফাতকেও খুন করেছে। টিভি সিরিয়াল ক্রাইম পেট্রোল দেখে হত্যাকাণ্ডের কৌশল শিখেছে। গ্রেফতার এড়াতে সে মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধের পাশাপাশি খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করে।

র‌্যাব আরো জানায় , গুলনাহার বেগমের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরিচয় ফারুকের। নানা বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হতো। গুলনাহার বেগম ফারুককে বকা-ঝকাও করতেন। এ থেকে তার ওপর ক্ষোভের সৃষ্টি হয় ফারুকের। ঘটনার দিন কথা কাটাকাটির জেরে একপর্যায়ে গুলনাহার বেগমকে খুন করে ফারুক। এ ঘটনা দেখে ফেলায় গুলনাহার বেগমের ছেলে রিফাতকেও খুন করে।

জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের পরপরই গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপন করে ফারুক। প্রথমে চকবাজার এলাকায় গিয়ে রক্তমাখা জামা ড্রেনে ফেলে দেয়। পরে নিজেকে অসহায় পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তির মাধ্যমে খাগড়াছড়িতে গ্যারেজে কাজ নেয়। সেখানে কিছুদিন থাকার পর ফের চট্টগ্রামে এসে বিভিন্ন মাজারে ঘুরে আত্মগোপন করে। পরে আবার ঢাকায় গিয়ে একটি গ্যারেজে কাজ নেয়। সম্প্রতি ফারুক চট্টগ্রামে ফিরে আসে।

মা-ভাইয়ের হত্যাকারীকে আটকের বিষয়টি শুনে র‌্যাব-৭ কার্যালয়ে আসেন নিহত গুলনাহার বেগমের মেয়ে ময়ুরী।

ময়ুরী গণমাধ্যমকে বলেন, আমি খুনির ফাঁসি চাই। ফারুককে আমি আগেই সন্দেহ করতাম।। ফারুক আমার মায়ের ‘পাতানো ভাই’। আমার মাকে সে বোন ডাকত। ফারুক আমাদের বাসায় আসা যাওয়া করতো। পাঁচ বছর ধরে ফারুকের সঙ্গে আমাদের পরিচয়। কিছুদিন আগে ফারুকের সঙ্গে মায়ের ঝগড়া হয়। তারপর থেকে মায়ের ওপর ক্ষিপ্ত ছিল ফারুক।

উল্লেখ্য, ২৪ আগস্ট পুরাতন চান্দগাঁও রমজান আলী সেরেস্তাদারের বাড়ি এলাকায় নিজ বাসায় খুন হন গুলনাহার বেগম (৩৩) ও তার ছেলে রিফাত (৯)।

Related posts

সাফারি পার্কে ১৩ প্রাণীর মৃত্যু, তদন্তে আরও ১০ দিন সময় চেয়েছে কমিটি

News Desk

পদ্মা সেতু নির্মাণকাজের অগ্রগতি ৯৪ দশমিক ২৫ শতাংশ

News Desk

খাগড়াছড়িতে বজ্রাঘাতে একজনের মৃত্যু

News Desk

Leave a Comment