Image default
বাংলাদেশ

প্রেমের প্রতিশোধ নিতে গৃহবধূকে একাই খুন করে ঘাতক

ফটিকছড়িতে আলোচিত গৃহবধু হত্যাকাণ্ডের ঘটনার ৫ দিনের মাথায় খতিজা বেগম খুকীর ঘাতক মানিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বিগত কয়েকদিন ধরে দফায় দফায় অভিযান চালিয়ে অবশেষে ফটিকছড়ি থানার ওসি রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে ২৫ মে মঙ্গলবার রাত ১২ টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের বেড়াজালী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার মানিক উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের নুরুল্লাহ মুন্সির বাড়ির মৃত আজিজুর রহমানে ৫ম পুত্র। পরে তার স্বীকারোক্তি মতে গভীর রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মানিকের বাড়ির পার্শ্ববর্তী একটি ডোবার পাড় থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুইটি চুরি ও একটি ধামা দা উদ্ধার করে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পরকীয়া প্রেমের কারণে খতিজাকে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করেছে মানিক।

জিজ্ঞাসাবাদে মানিক জানায়, সে পেশায় একজন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি। সে সুবাধে খতিজার ঘরে মানিকের নিয়মিত আসা-যাওয়া ছিল। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। যা পরে দৈহিক সম্পর্কে রূপ নেয়। খতিজার সাথে পরকীয়া চলা অবস্থায় একপর্যায়ে তার বড় মেয়ে নিহার সাথেও মানিকের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরে কাতারে পাড়ি জমায় মানিক। সেখান থেকেও মা-মেয়ের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ চলতো মানিকের। তাদের জন্য বিদেশ থেকে নানা উপঢৌকন ও টাকা পাঠাতো সে। পরে মেয়ে নিহাকে মানিকের সাথে বিয়ে দেওয়ার কথা বলে তাকে দেশে আসতে বলেন খতিজা। দুই বছর পর মানিক কাতার থেকে ফেরার সময় তাকে রিসিভ করতে বিমানবন্দরে যান খতিজা ও মেয়ে নিহা। দ্বিতীয়বার প্রবাসে চলে যাওয়ার কয়েকদিনের মাথায় মানিকের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন মা-মেয়ে দু’জন। পরবর্তীতে মানিক জানতে পারে, তার সাথে নিহাকে বিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও অন্যত্র বিয়ে দেয়ার কথা চূড়ান্ত হয়ে গেছে। বিষয়টি জানতে পেরে দশ দিনের মাথায় হঠাৎ করে দেশে ফিরে আসে মানিক।

দেশে এসে মানিক নিহাকে বিয়ে করতে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিলে তার সাথে মেয়েকে বিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানায় খতিজার পরিবার। এরপর থেকে একপ্রকার হতাশায় দিনযাপন করতে থাকে মানিক। শেষ পর্যন্ত প্রেমের প্রতিশোধ নিতে খতিজাকে খুন করার পরিকল্পনা করে সে। অবশেষে খতিজার স্বামী ইছা আহমদ বিদেশ চলে যাওয়ার কয়েকদিনের মাথায় সুযোগ বুঝে খতিজাকে নৃশংসভাবে খুন করে মানিক। গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন- কয়েক দফায় অভিযান চালিয়ে আমরা তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে একাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছে। পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ শেষে আদালত প্রেরণ করা হবে। উল্লেখ্য, গত ২০ মে বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে নাজিরহাট পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের নুরুল্লাহ মুন্সির বাড়ির প্রবাসী ইছা আহমেদের ঘরে প্রবেশ করে গৃহবধূ খাতিজা বেগম খুকিকে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে মানিক।

সূত্র :দা ডেইলি সাঙ্গু

Related posts

ঢাকার প্রবেশ মুখে শত শত গাড়ি, কখন-কীভাবে গন্তব্যে পৌঁছাবেন তা কেউই জানে না

News Desk

‘ব্রহ্মপুত্রে ভাঙবার ধরলে কলিজাটা থা‌কে না’

News Desk

‘আপনারাও ওনাকে দিয়ে জোর করে বলান’

News Desk

Leave a Comment