রাজধানীর কাকরাইলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লাঠিপেটায় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ নেতাকর্মীরা আহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করা হয়েছে। এসব কর্মসূচি থেকে হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা এবং জাতীয় পার্টিকে (জাপা) নিষিদ্ধের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও রাজশাহীতে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়েছে।
বাংলা ট্রিবিউনের জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন-
পটুয়াখালী: নুরের নিজ জেলা পটুয়াখালী, গলাচিপা উপজেলা ও নিজ গ্রামে বিক্ষোভ ও সমাবেশ হয়েছে। গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা পৃথক সময়ে এসব কর্মসূচি করেন। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে এ তিন স্থানে মশালমিছিল ও বিক্ষোভ হয়। পাশাপাশি শনিবার দুপুর ১টার দিকে গণঅধিকারের জেলা কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন নেতাকর্মীরা। মিছিল নিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন তারা। বিকাল ৪টার দিকে গলাচিপা উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হয়। সমাবেশ থেকে হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা এবং জাতীয় পার্টিকে (জাপা) নিষিদ্ধের দাবি জানানো হয়।
বগুড়া: নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে বগুড়ায় মহাসড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছেন দলের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে বগুড়া সদরের মাটিডালি এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় মহাসড়কের ঢাকাগামী লেনে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা জানান, জাতীয় পার্টির মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে ফেরাতে প্রশাসনের একটি অংশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকায় নুরুল হক নুরের নেতৃত্বে শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলা চালানো হয়। হামলায় জড়িত আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের সব রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবি জানান তারা।
গাইবান্ধা: নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে শহরে গণঅধিকার পরিষদ, ছাত্র, যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে বক্তারা বলেন, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানের ওপর সন্ত্রাসী হামলা গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করার একটি ঘৃন্য চেষ্টা। তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বক্তারা আরও বলেন, জনগণের গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমিয়ে রাখার সকল অপচেষ্টা ব্যর্থ হবে। গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা জনগণের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই চালিয়ে যাবে। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা গণঅধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতারা।
পাশাপাশি বিকালে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে শহরের গোডাউন রোডের হকার্স মার্কেটের জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে এ ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা কার্যালয়ের সাইনবোর্ড ও শাটার ভেঙে ফেলেন।
রাজশাহী: নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা। পরে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক ছেড়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। এরপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ঘণ্টাব্যাপী অবরোধ চলাকালে তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে হামলাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানান। এ সময় তারা ‘ছাত্র নাগরিক জনতা, গড়ে তোলো একতা’, ‘জুলাইয়ে হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘ফ্যাসিবাদের গদিতে, আগুন জ্বালো একসাথে’, ‘ভিপি নুর আহত কেন, প্রশাসন জবাব চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
কর্মসূচিতে রাবি শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মেহেদী হাসান মারুফ বলেন, ‘জাতীয় পার্টির ছায়াতলে সেনা ও পুলিশের নেতৃত্বে নুরুল হক নুরের ওপর যে হামলা হয়েছে, তার দায় সরকার এড়াতে পারে না। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার করতে হবে।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রাবির সাবেক সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘২০১৭ সাল থেকে নুর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তার ওপর ভয়াবহ হামলা ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি। আজ যদি নুর নিরাপদ না থাকেন, তবে সাধারণ ছাত্রনেতারাও নিরাপদ নন।’
এ সময় আরও বক্তব্য দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, রাবির সাবেক সমন্বয়ক ফাহিম রেজা ও মাহায়ের ইসলাম, রাবি শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আল শাহরিয়া শুভ এবং শাহবাগ বিরোধী ছাত্র ঐক্যের আহ্বায়ক রাকিবুল হাসান।
এদিকে, নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাজশাহীতে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত ১২টার দিকে নগরীর গণপাড়া মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। ফ্যাসিবাদ বিরোধী জাতীয় ঐক্যের ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল থেকে হামলার সূত্রপাত হয়।
মুন্সীগঞ্জ: নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে জেলা গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা ছনবাড়ী এলাকায় এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় হামলায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়। এতে সাময়িক বন্ধ হয়ে যায় সড়কটিতে যান চলাচল। পরে নেতাকর্মীরা সড়ক ছেড়ে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
একই দাবিতে মুন্সীগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বিক্ষোভ বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেসক্লাব ফটকে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সভায় বক্তব্য রাখেন নেতাকর্মীরা।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গণঅধিকার পরিষদের জেলা কমিটির সেক্রেটারি মনসুর আহমেদ, যুব অধিকারের সাবেক সভাপতি মাজহারুল ইসলাম, ছাত্র অধিকার পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি মো. রাজু প্রমুখ। তারা বলেন, নুরের ওপর হামলায় জড়িতদের গ্রেফতার করতে হবে।। একইসঙ্গে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সহযোগী হিসেবে জাতীয় পার্টির নিবন্ধন বাতিল করতে হবে।
দিনাজপুর: নুর ও দলের শীর্ষ নেতাদের ওপর আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলার প্রতিবাদে দিনাজপুরে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে গণঅধিকার পরিষদের দিনাজপুর শাখার আয়োজনে শহরের হাসপাতাল মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।
এ সময় গণঅধিকার পরিষদের জেলা শাখার সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিক, সাধারণ সম্পাদক গোলাম আজম, সহসভাপতি রেজয়ান ইসলাম সজীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি ইয়াকুব আলী ইমনসহ দলটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে মিছিলটি শহরের লিলির মোড়, চারুবাবুর মোড় পার হয়ে জাতীয় পার্টির অফিস অভিমুখে যেতে চাইলে বাধা দেয় পুলিশ। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে মিছিলটি থানা মোড় থেকে পুনরায় প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়।
সমাবেশ থেকে হামলায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান নেতারা। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
নীলফামারী: নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদ এবং জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধের দাবিতে নীলফামারীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে জেলা শহরের চৌরঙ্গি মোড়ে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। গণঅধিকার পরিষদ নীলফামারী জেলা শাখার আয়োজনে কর্মসূচিতে একাত্মতা জানিয়ে অংশ নেন জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাকর্মীরা।
সমাবেশে গণঅধিকার পরিষদ জেলা শাখার সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে এনসিপির জেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী আব্দুল মজিদ ও সদস্য আখতারুজ্জামান, গণঅধিকার পরিষদ সৈয়দপুর উপজেলা শাখার সভাপতি মনোয়ার হোসেন, জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এ কে উদার, জেলা যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক বক্তব্য দেন। বক্তারা শুক্রবার রাতে নুরের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। এ ছাড়া ফ্যাসিস্টের দোসর জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধ এবং জিএম কাদেরকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। এর আগে শহরের বড় বাজারস্থ দলীয় কার্যালয় থেকে মিছিল বের করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে সমাবেশে মিলিত হন।
সিরাজগঞ্জ: দুপুরে যমুনা সেতুর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের গোলচত্বর থেকে উত্তরবঙ্গমুখী লেন হয়ে সায়দাবাদ পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করেন গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। এ সময় যমুনা সেতুর পশ্চিম সংযোগ সড়কের গোলচত্বর এলাকায় উত্তরবঙ্গমুখী লেন ১০-১৫ মিনিটের জন্য অবরোধ করা হয়। অবরোধ চলাকালে সড়কে টায়ারে আগুন দিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে সায়দাবাদ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নেতারা বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, নুরসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর হামলাকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
কুমিল্লা: নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ীতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উভয় লেন অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা মহাসড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে দেন। এতে মহাসড়কে দুই দিকে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় আধা ঘণ্টা পর নেতাকর্মীরা সরে গেলে দুপুর ১টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কুমিল্লা জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘আমরা সরকারের সঙ্গে সম্প্রীতির যে সম্পর্ক দেখিয়েছি, তারা সেটাকে দুর্বল মনে করেছে। এখন থেকে আর নয়। যেখানে সন্ত্রাসী হামলা হবে, সেখানেই আমরা লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যাবো।’
বরিশাল: দুপুরে বরিশাল নগরের অশ্বিনীকুমার হলের সামনে বরিশাল জেলা ও মহানগর গণঅধিকার পরিষদ এবং এনসিপির উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়। এরপর নেতাকর্মীরা নগরীতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা জাপা, সেনাবাহিনী ও পুলিশের বিরুদ্ধে এই হামলার অভিযোগ করেন। অন্তর্বর্তী সরকার ভেঙে দিয়ে জাতীয় সরকার গঠন এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেন তারা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, প্রথমে পুলিশ ও সেনারা তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালান। এরপর জাপাও এই হামলায় অংশ নেয়। এ ঘটনার দায়ে অবিলম্বে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেন তারা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
টাঙ্গাইল: দুপুরে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা টাঙ্গাইল জেলা জাপার কার্যালয় ভাঙচুর করেন। পরে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা। বেলা ১১টার দিকে টাঙ্গাইল জেলা গণঅধিকার পরিষদের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নিরালা মোড় পার হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার পাশে জেলা জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে গিয়ে হামলা চালায়। তারা কার্যালয়ের শাটার ভেঙে ভেতরে ঢুকে চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করেন। পরে মিছিল নিয়ে তারা ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের নগর জলফৈ মোড় অবরোধ করেন। অবরোধের কারণে মহাসড়কে যানবাহনে আটকা পড়েন যাত্রী ও চালকরা।
মাদারীপুর: নুরসহ দলটির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মাদারীপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে গণঅধিকার পরিষদ জেলা শাখা। দুপুরে মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ করেন নেতাকর্মীলা। এ সময় দলের নেতারা বলেন, এদেশে রাজনীতির নায়ক ভিপি নুর। তিনি রাজনীতিতে আসার আলো দেখিয়েছেন। তার ওপর হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির দুর্নীতি দমন মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্পাদক নুর আলম মোল্লা, মাদারীপুর জেলা গণঅধিকার পরিষদের সেক্রেটারি শাহরিয়ার হোসেন প্রমুখ।
অপরদিকে, নুরসহ দলটির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে শিবচরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। সন্ধ্যায় শিবচর প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করা হয়। গণঅধিকার পরিষদের শিবচর উপজেলা শাখার সভাপতি জামাল আহম্মেদ সাজ্জাদের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলার সভাপতি গাউস মৃধা, সহসভাপতি মো. তারেক রহমান প্রমুখ।
মৌলভীবাজার: নুরসহ তার দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মৌলভীবাজার জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন নেতাকর্মীরা। মিছিল শেষে জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় ও জেলা সভাপতি অপু রায়হানের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ও নিরাপত্তা বিষয়ক সহ-সম্পাদক আব্দুন নুর তালুকদার।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, গণঅধিকার পরিষদের মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় জাপার লোকজন বিনা উসকানিতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে নুরসহ অসংখ্য নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করেছে। দোষীদের আইনের আওতায় আনা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
ময়মনসিংহ: গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরসহ নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে শুক্রবার রাতেই ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঈশ্বরগঞ্জ শহরে গণঅধিকার পরিষদের মিছিল থেকে নেতাকর্মীরা জাতীয় পার্টি কার্যালয়ে ভাঙচুর চালান।
গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ওই বিক্ষোভ মিছিলটি ঈশ্বরগঞ্জ সরকারি কলেজের সামনে থেকে বের হয়ে উপজেলা পরিষদ প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কলেজের সামনে এসে শেষ হয়। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদ ময়মনসিংহ জেলার দফতর সম্পাদক কাঞ্চন আহমেদ, মহানগরের সাধারণ সম্পাদক (প্রস্তাবিত) মাহবুবুল আলম, উপজেলা সভাপতি আল-আমিন, সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ, জেলা যুব অধিকার পরিষদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আমির খান। পরে উপজেলা জাতীয় পার্টি কার্যালয় ভাঙচুর করে নেতাকর্মীরা।
ঠাকুরগাঁও: নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে শনিবার দুপুর ১টার দিকে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলা-ভাংচুর ও বাইরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
হরিপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. হাসান আলী বলেন, গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে আমাদের কার্যালয়ে হামলা চালান। তারা আমাদের কার্যালয়ের ৪০-৫০টা চেয়ার, দুটি টেবিল, চারটা ফ্যান, দুইটা আলমারি ভাঙচুর করে এবং কিছু আসবাবপত্র বাহিরে বের করে আগুন ধরিয়ে দেন। এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।