গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ দলটির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ-সমাবেশ শেষে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়েছে।
শনিবার (৩০ আগস্ট) বিকালে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে শহরের গোডাউন রোডের হকার্স মার্কেটের জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে এ ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা কার্যালয়ের সাইনবোর্ড ও শাটার ভেঙে ফেলেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানিয়েছেন, দুপুরে শহরে গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে প্রতিবাদ মিছিল করেন দলের নেতাকর্মীরা। পরে মিছিল নিয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করেন তারা। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভকারীরা গোডাউন রোডে জড়ো হন। এ সময় পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে গেলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তারা সড়কে অবস্থান নিয়ে নানা স্লোগান দেন। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বৃষ্টি শুরু হলে এ সুযোগে কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় কার্যালয়ের সাইনবোর্ড ও শাটার ভেঙে ফেলা হয়। পরে মিছিল নিয়ে সেখান থেকে সরে যান বিক্ষোভকারীরা।
এর আগে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনের সমাবেশ থেকে নুরুল হক নুরসহ দলটির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান দলটির নেতাকর্মীরা। একইসঙ্গে হামলায় জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে দলের নেতৃবৃন্দ বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমিয়ে রাখার অপচেষ্টা সফল হবে না। জনগণের অধিকার আদায়ে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই চালিয়ে যাবে।
এ বিষয়ে জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সরোয়ার হোসেন শাহীন বলেন, ‘হঠাৎ পার্টি অফিসে হামলা চালানো হলো। গেটের তালা ও শাটার ভাঙচুর করা হয়েছে। যারা হামলা করেছে তাদের ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে। এ হামলার নিন্দা জানাচ্ছি। পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানাই।’
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর তালুকদার বলেন, ‘উত্তেজিত হয়ে বিক্ষোভকারীরা জাতীয় পার্টির কার্যালয় ভাঙচুর করেছেন। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।’
প্রসঙ্গত, শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। জাপার কার্যালয়ের সামনে দিয়ে গণঅধিকার পরিষদের একটি মিছিল যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লাঠিপেটায় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হকসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।