সাগরের জলে ভেসে গেলো ৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকার রাস্তা
বাংলাদেশ

সাগরের জলে ভেসে গেলো ৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকার রাস্তা

কুয়াকাটায় হোটেল সিভিউ থেকে ঝাউবন পর্যন্ত ১৩০০ মিটার দীর্ঘ সড়ক প্রকল্পের ৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকার ব্যয় এখন সাগরের জলে ভেসে গেছে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই জোয়ারের পানিতে রাস্তার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ধসে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন, পর্যটক ও সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনার ঝড় বইছে।

সাম্প্রতিক লঘুচাপের ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি ও ঢেউয়ের তীব্রতায় মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও সংলগ্ন সবুজবেষ্টনী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অথচ এলাকাটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হওয়া সত্ত্বেও গাইডওয়াল ছাড়া রাস্তা নির্মাণ করা হয়, যা প্রকল্পের ‘পরিকল্পনাহীনতা’কে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।

তৎকালীন পৌর মেয়র আনোয়ার হাওলাদারের ঘনিষ্ঠদের মালিকানাধীন তিনটি প্রতিষ্ঠান— মেসার্স মোল্লা ট্রেডার্স, মেসার্স আবরার ট্রেডার্স ও এসএম ট্রেডার্স কাজটি পায়। অভিযোগ উঠেছে, স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে টেন্ডার প্রক্রিয়া প্রভাবিত হয়েছে এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে।

পৌরসভার তথ্যমতে, তিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার বিল উত্তোলন করেছে, অথচ প্রকল্পের কাজ এখনো অসম্পূর্ণ। নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ইট ও বালুর মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা ইব্রাহিম বলেন, ‘এত টাকা খরচ করে রাস্তা বানানো হয়েছে, অথচ উদ্বোধনের আগেই ধসে গেছে! এটা লজ্জার।’

আরেকজন, জনি বলেন, ‘সঠিক পরিকল্পনা থাকলে এভাবে টাকা পানিতে ভেসে যেত না।’

কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আমির বলেন, ‘এমন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গাইডওয়াল ছাড়া রাস্তা নির্মাণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কোটি টাকার প্রকল্প এভাবে ধ্বংস হওয়া পরিকল্পনাহীনতার দৃষ্টান্ত।’

এসএম ট্রেডার্সের মালিক সাদ্দাম মাল বলেন, ‘আমি সরাসরি কাজ করিনি, সাব-কন্ট্রাকে দিয়েছিলাম।’ তবে তিনি সাব-কন্ট্রাক্টর রুহুল আমিনের ফোন নম্বর দিতে পারেননি। অন্য দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

কুয়াকাটা পৌরসভার প্রকৌশলী সুজন বলেন, ‘কাজ এখনও চলমান। অনিয়ম প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সাবেক মেয়র আনোয়ার হাওলাদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই কাজ দেওয়া হয়েছে।’

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিউল ইসলাম বলেন, ‘প্রকল্প নিয়ে আমরা ক্ষুব্ধ। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চিঠি তৈরি করা হয়েছে। বকেয়া বিল বন্ধ, জামানত বাজেয়াপ্ত ও ক্ষতিপূরণ আদায়ের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’

Source link

Related posts

বস্তায় আদা চাষে ঝুঁকছেন কৃষক, পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে দেখছেন লাভের মুখ

News Desk

সংঘর্ষে উড়ে গেছে বাসের ছাদ, তবু পাঁচ কিলোমিটার চালিয়ে গেলেন চালক

News Desk

ধীরে ধীরে বাংলাদেশের উন্নতি হচ্ছে: ব্রিটিশ হাই কমিশনার

News Desk

Leave a Comment