Image default
বাংলাদেশ

র‌্যাগিংয়ে অসুস্থ শিক্ষার্থী, অচেতন অবস্থায় পড়েছিল ছাত্রাবাসের সামনে

টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এক জুনিয়র শিক্ষার্থীকে র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। ওই শিক্ষার্থীকে ছাত্রাবাসের সামনে অচেতন অবস্থায় পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. তারেক। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথম বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। 

মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কার্যালয়ে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান মো. রোকনুজ্জামানের সুপারিশক্রমে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। বুধবার (৩০ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মীর মো. মোজাম্মেল হক বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত সোমবার গভীর রাতে তারেককে সন্তোষ আরিফ নগরে অবস্থিত ছাত্রাবাসের সামনে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে স্থানীয় লোকজন, পুলিশ প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

মঙ্গলবার সকালে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে র‌্যাগিং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ক্যাম্পাসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ঘটনার প্রতিকার চেয়েছেন। তারা অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২৮ মার্চ রাতে ক্যাম্পাসের পাশে সন্তোষ আরিফ নগরে অবস্থিত ছাত্রাবাসে দ্বিতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী শামীম, আজমাইন, সেলিম, মাহিন ও রাহাত এবং ফার্মাসি বিভাগের সাফিসহ আরও কয়েকজনের হাতে র‌্যাগিংয়ের শিকার হন তারেক। এতে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় লেখাপড়া চালানো কঠিন হওয়ায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষার্থী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওপর অমানবিক র‌্যাগিং এবং শারীরিক, মানসিক অত্যাচার করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষেধ থাকলেও রাতে বিভিন্ন মেসে ডেকে সারারাত র‌্যাগিং করা হয়। সেই সঙ্গে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। বিষয়টি নিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন অনেক শিক্ষার্থী। প্রভাবশালী এই চক্রের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।

এদিকে, অমানবিক নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষার্থীকে তার পরিবারের লোকজন এসে বাড়িতে নিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। তার পরিবারও বিষয়টি নিয়ে বেশ চিন্তিত। তারা অভিযুক্তদের শাস্তি দাবি করেছেন।  

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মীর মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে আমি একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছি। ভাইস চ্যান্সেলরের সঙ্গে কথা হয়েছে। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবো আমরা। তিন-চার কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন এলে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। র‌্যাগিয়ের ব্যাপারে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করতেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাগিং আগে থেকেই নিষিদ্ধ।’

তিনি আরও বলেন, ‘সমস্যাটা হলো আমাদের শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসের ভেতরে রাখার ব্যবস্থা করতে পারি না। ফলে দেখা যায়, শহরের বিভিন্ন জায়গায় তারা থাকে। এজন্য তাদের সবসময় দেখাশোনা করতে পারি না। ওই সময়ই র‌্যাগিং হয়। যারা র‌্যাগিং করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Source link

Related posts

ওসমান হাদিকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, চিকিৎসকে অব্যাহতি

News Desk

নতুন রেলপথ উদ্বোধন করতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী, কক্সবাজারে উৎসব

News Desk

সালাউদ্দিন আলমগীরের পক্ষে প্রচারণায় নামলেন কাদের সিদ্দিকী

News Desk

Leave a Comment