নতুন সরকার ক্ষমতা নিতে যাচ্ছে। এদিকে, ক্রীড়াবিদদের টেবিলে আলোচনার জন্য মাশরাফি-সাকিব ইস্যু উঠে এসেছে। বিএনপি সরকারের নির্বাচিত অনেক জনপ্রতিনিধি মোশাররফ সাকিবের ওপর আস্থা রেখেছেন। দেশটির দুই সংসদ সদস্য মোশাররফ সাকিবকে দেশের সম্পদ বলে মনে করেন। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছি। তাদের কথোপকথনে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে সাকিব আল হাসান দেশে ফিরতে পারেন। আবারও ক্রিকেট অঙ্গনে ফিরতে পারেন মাশরাফি। দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। হত্যা মামলাও রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা তা বিশ্বাস করেন না, বা বিশ্বাস করা কঠিন। বিএনপি সরকার কাজ শুরু করলে সাকিব মোশাররফ স্বাধীন বাংলাদেশের আকাশে ফিরতে পারবেন।
গতকাল বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাকিব মোশাররফী মামলা নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন ও আলী আজগর লাবি তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। এই দুই ক্রিকেটার যে গণহত্যায় জড়িত ছিলেন তা তারা বিশ্বাস করেন না। মোশাররফ ও সাকিব দুজনেই দেশের সম্পদ হিসেবে বিবেচিত এবং তারা দুজনই প্রতিনিধি।
<\/span>“}”>
দেশের মঙ্গলের জন্য বিএনপি সাকিব মোশাররফকে ফিরিয়ে আনতে পারে বলে মনে করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক অব বাহরাইনের সাবেক চেয়ারম্যান আলী আজগর লাবি। কয়েকদিন আগে ক্রিকেট বোর্ডের দীর্ঘ আট ঘণ্টা বৈঠকের পর সাকিবের নাম ঘোষণা করে বিসিবি। সাকিব খেলতে চায়। সাকিবের সঙ্গে কথা বলে বিসিবি। তবে সবকিছু নির্ভর করছে মামলার অবস্থার ওপর। সাকিব আগেই বলেছিলেন, খেলার পর নিরাপদে দেশ ছাড়তে চান। কিন্তু বিসিবি তাকে এই নিশ্চয়তা দিতে পারেনি। ফলে মাঝমাঠে দায়িত্ব থাকলেও দুবাই থেকে ফিরেছেন সাকিব।
সাকিব একটি হত্যা মামলার আসামি। গার্মেন্টস কর্মীকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। প্রথম আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, দ্বিতীয় আসামি সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। শীর্ষ তালিকায় নেই সাকিবের নাম। সাকিব হত্যার সঙ্গে জড়িত বলে বিশ্বাস করেন না এমপি ইশরাক হোসেন। ব্রাদারহুড নেতা ইশরাক হোসেন গণমাধ্যমকে বলেছেন, মোশাররফ সাকিব তাদের বিরুদ্ধে মামলাটি বিশ্বাসযোগ্য মনে করেন না।
<\/span>“}”>

নিরাপত্তাজনিত কারণে দেশে ফিরতে পারেননি সাকিব। তবে সাম্প্রতিক সাকিব ইস্যু নিয়ে সরব নিজেই ক্রিকেট বোর্ডে রয়েছেন। সেন্ট্রাল ব্যাংক অব বাহরাইনের পরিচালক আসিফ আকবর জানিয়েছেন, সাকিব ফিরবেন। পাওয়া গেলে SABIC নেওয়া যেতে পারে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে সাকিব দেশে ফিরতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। এ নিয়ে কাজ করছে ক্রিকেট বোর্ড। তিনি ফিরলে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পাবেন। সাকিব আল হাসান 2024 সালে কানপুরে ভারতের বিপক্ষে একটি টেস্ট খেলেছিলেন। পাকিস্তান মার্চে সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসবে।
নিরাপত্তাজনিত কারণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যায়নি বাংলাদেশ। বিকল্প ভেন্যু হিসেবে শ্রীলঙ্কায় খেলতে চাইলেও আইসিসি থেকে অনুমতি পায়নি তারা। তাই নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশ এই টুর্নামেন্ট খেলতে যায়নি। ক্রীড়া উপদেষ্টা ডক্টর আসিফ নজরুল জানুয়ারিতে বলেছিলেন যে বাংলাদেশ নিরাপত্তার বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তে হেরফের করতে পারে না। বিসিবি পরিচালক আরও বলেন, সরকার অনুমতি না দিলে ক্রিকেট দলকে দেশের বাইরে পাঠানো যাবে না।
<\/span>“}”>

কিন্তু সম্প্রতি বিসিবি ও ক্রিকেটাররা বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রীড়া পরামর্শক। বাংলাদেশ খেলতে না পারার বিষয়ে আইসিসির বৈঠকে ১৬টি ভোটের মধ্যে দুটি ভোট পায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের বিপক্ষে পড়েছে ১৪টি ভোট। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইস্যুতে আলি আজগর লাবি বলেন, সিবিআইকে কূটনৈতিক বিজয় দেওয়া উচিত ছিল।
নির্বাচনের আগে সাকিবের মামলা নিয়ে ইতিবাচক কথা বলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এখন নির্বাচনের পর সাকিব-মোশাররফ ইস্যুতে বিএনপি সরকার যেভাবে আলোচনা করছে তাতে ক্রিকেটারদের জন্য বন্ধ দরজা খুলে যেতে পারে।

