Image default
অন্যান্যজানা অজানা

কিভাবে লম্বা হওয়া যায়? লম্বা হওয়ার ৮ উপায়

কোটি টাকার প্রশ্ন, কিভাবে লম্বা হওয়া যায়? সত্যি কথা বলতে, লম্বা হওয়ার জন্য আপনার লাইফস্টাইল অনেক গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই মনে করেন লম্বা হওয়া প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ বংশগত একটি বিষয়। এ কারণে কেউ চাইলেও অন্য কোনো পদ্ধতি অবলম্বন করে লম্বা হতে পারবে না। তবে ধারণাটি সঠিক নয়। সঠিক জীবনযাপনে কিছুটা হলেও শরীরের উচ্চতা বৃদ্ধি করা যায়। আপনি কি খাচ্ছেন, কিভাবে জীবন-যাপন করছেন, এর উপর লম্বা হওয়াটা অনেকাংশে নির্ভর করে।

কিভাবে লম্বা হওয়া যায়

লম্বা ও ছিপছিপে গড়ন কার না পছন্দ। আজকাল লম্বা শারীরিক গঠনের কদর খুবই বেশি। বিয়ের বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে বিমানবালার চাকরী পর্যন্ত সকল ক্ষেত্রেই লম্বা মানুষের চাহিদা খুব বেশি! কিন্তু সকলেই লম্বা ও সুগঠিত শরীর নিয়ে জন্ম নেন না। তখন কেউ কেউ বিভিন্ন ধরনের ওষুধের শরণাপন্ন হন আবার অনেকেই বিষণ্ণতায় পড়ে যান। দুশ্চিন্তায় পড়ে যাবার কিংবা মনঃক্ষুণ্ণ হবার কোন কারণ নেই।

কিভাবে লম্বা হওয়া যায় কিছু উপায় নিচে বর্ণনা করা হলো

রোদে হাঁটা: হাড়ের বিকাশের জন্য শরীরে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। আর রোদে হাঁটলে শরীরে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। তবে শরীরের রঙ ভেদে রোদে থাকতে হবে। এর মধ্যে ফর্সা ত্বকের লোক সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট রোদে থাকতে পারবেন। কিন্তু কালো ত্বকের লোকদের ভিটামিন ডি পেতে হলে প্রায় ঘন্টখানেক রোদে থাকতে হবে।

স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাদ্য: সঠিক পরিমাণে পুষ্টি দেহের উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাজা শাকসবজি, ফলমূল এবং প্রোটিন জাতীয় খাদ্য প্রতিদিনের তালিকায় রাখতে হবে। প্লেটের অর্ধেক রাখতে হবে শাকসবজি, চার ভাগের এক ভাগ পূর্ণ করতে হবে প্রোটিন জাতীয় খাদ্য দিয়ে এবং বাকি চার ভাগের এক ভাগ রাখতে হবে শর্করা। এছাড়া, হালকা খাবার হিসেবে থাকতে হবে ফলমূল, সবজি ও কম চর্বিযুক্ত খাদ্য। প্রোটিন জাতীয় খাদ্যদ্রব্য গুলো হলো মুরগির মাংস, টার্কি, মাছ, শিম, বাদাম এবং লো ফ্যাট জাতীয় খাদ্য। জটিল শর্করার মধ্যে আছে শস্য জাতীয় খাদ্য, আলু।

স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাদ্য

প্রোটিন যুক্ত খাবার খাওয়া: শরীরের বৃদ্ধি ও মাংসপেশি সুগঠিত করার জন্য প্রোটিন খুব জরুরি। প্রতিবেলায় আহারে তাই প্রোটিন অবশ্যই গ্রহন করতে হবে। প্রয়োজনে হালকা খাবার গ্রহণের তালিকায়ও প্রোটিন রাখতে হবে। যেমন সকালের আহারের জন্য দই রাখা যেতে পারে, দুপুরের জন্য টুনা মাছ, রাতে মুরগির মাংস। এছাড়া, হালকা নাস্তার তালিকায় রাখা যেতে পারে স্ট্রিং চিজ।

পর্যাপ্ত পুষ্টি: শরীরের বিকাশের জন্য পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে হবে। নিয়মিত বাদাম, দুধ, চর্বিহীন মাংস ও শাকসবজি খেতে হবে। এছাড়া প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেডযুক্ত খাবার খেতে হবে। ফলে শরীরের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে।

প্রতিদিন একটি করে ডিম খাওয়া: পরীক্ষায় দেখা গেছে যেসব বাচ্চারা প্রতিদিন একটি করে ডিম খায়, সেসব বাচ্চার একটু বেশি লম্বা হয় তাদের থেকে যারা প্রতিদিন ডিম খায় না। ডিমে রয়েছে শরীরের বৃদ্ধির জন্য অতি প্রয়োজনীয় প্রোটিন ও ভিটামিন। এছাড়া, এটি সস্তা বলে সবাই কিনে খেতে পারে। তবে অনেক সময় প্রতিদিন ডিম খেলে, অনেক বাচ্চাদের শারিরীক সমস্যা হতে পারে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

শরীরচর্চা: শরীর ভালো রাখতে যেমন নিয়মিত শরীরচর্চার বিকল্প নেই, তেমনি শরীরের উচ্চতা বৃদ্ধিতেও শরীরচর্চার বিকল্প নেই। নিয়মিত শরীরচর্চা করলে শরীরের উচ্চাতা এমনিতেই বাড়বে।

প্রতিদিন শরীরচর্চা করা

পর্যাপ্ত ঘুম: পর্যাপ্ত ঘুমের ফলে দৈহিক উচ্চতা বৃদ্ধি পায়। উচ্চতা বাড়াতে চাইলে প্রতিরাতে আট ঘণ্টা করে ঘুমাতে হবে।

স্বাস্থ্যকর দেহভঙ্গি: সোজা হয়ে সঠিকভাবে বসলে শরীরের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। চলাফেরার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। তাই কুঁজো না হয়ে মেরুদণ্ড করে বসতে হবে। ও চলাফেরা করতে হবে।

আত্মবিশ্বাসী হওয়া: সব সময় হাসি-খুশি থাকলে মন সতেজ থাকে। নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস রাখুন। কেননা আত্মবিশ্বাস শরীর ও মনের উপর ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। ফলে কিছু না কিছু উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে।

নেশা জাতীয় দ্রব্য থেকে দূরে থাকুন: নেশা জাতীয় দ্রব্য যেমন শরীরের জন্য ক্ষতিকর তেমনি শরীরের হরমোনের পরিমান কমিয়ে আনে। শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বাধা দেয়। আজই ধূমপান , মদ , এসব নেশা ছেড়ে দিন। আপনার উচ্চতা বাড়াতে প্রতিদিন ১ ঘন্টা ব্যায়াম করুন যেমন : সাতাঁর কাটুন, দড়ি লাফান, সাইকেল চালান, রিং টানুন ইত্যাদি ব্যায়াম করতে পারেন। জিমে জয়েন করলে আরও ভাল হয়।

লম্বা হওয়ার জন্য জীবনযাত্রা পরিবর্তন

সঠিক ভঙ্গিতে চলাচল : দেহের সঠিক বৃদ্ধি নজরে আসার জন্য সঠিক ভঙ্গিতে চলাচল করতে হবে। হাঁটার সময় মেরুদন্ড সোজা করে হাঁটতে হবে। কাধ সমান করে এবং সামনে তাকিয়ে হাঁটতে হবে। বসার সময়ও মেরুদন্ড সোজা করে বসতে হবে এবং মুখ সোজা করে রাখতে হবে সামনে।

হাঁটা ও বসার ভঙ্গি ঠিক আছে কিনা সেটা আয়নার সামনে বসে নিজে নিজেই পরীক্ষা করা যায়।

প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে শরীরচর্চা করা: শরীরের হাড় ও মাংসপেশি সুগঠিত হওয়ার জন্য প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে ব্যায়াম করা জরুরি। ব্যায়াম শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে এবং দেহের সঠিক বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে। পছন্দমত একটি ব্যায়াম বাছাই করে নিতে হবে যেটা শরীরের জন্য উপযোগী হয় ও যেটা করে মন ও আনন্দ পায়। যেমন কোন ধরনের খেলাধুলা, নাচের ক্লাসে অংশগ্রহণ, ৩০ মিনিট হাঁটা বা দৌড়ানো।

প্রতিদিন সময়মতো ও নিয়ম করে পরিমিত ঘুম

প্রতিদিনের অন্যান্য কাজের পাশাপাশি নিয়ম করে ঘুমাতে হবে। সারাদিন পরিশ্রমের ফলে শরীরের হাড়, মাংসপেশি ক্লান্ত হয়ে যায়, শরীর ভেঙ্গে পড়ে তখন তাদের বিশ্রামের দরকার হয়। পুনরায় নতুন উদ্যোমে কাজ শুরু করার জন্য এদের দরকার পর্যাপ্ত বিশ্রাম।

তাই ঠিক মত যেন ঘুম হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ঘুম ঠিকমত হলে শরীরের হাড় ও মাংসপেশির বিশ্রাম ও ঠিক মত হবে এবং তারা পুনরায় শক্তিশালী হয়ে উঠবে। বয়স অনুযায়ী ঘুমের মাত্রা ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। যাদের ঘুম আসে না, তারা তাড়াতাড়ি ঘুমানোর উপায় লেখাটি পড়তে পারেন।

নিচে তার তালিকা দেয়া হলো, কিভাবে ঘুমালে লম্বা হওয়া যায়
নবজাতক শিশুর জন্য ১৮ ঘন্টা।
২ থেকে ৪ বছর বয়সী বাচ্চার জন্য ১৩-২২ ঘন্টা।
৩ থেকে ৫ বছর বয়সী বাচ্চার জন্য ১১-১৩ ঘন্টা।
৬ থেকে ৭ বছর বয়সী বাচ্চার জন্য ৯-১০ ঘন্টা।
৮ থেকে ১৪ বছর বয়সী বয়:সন্ধি কিশোর কিশোরীদের জন্য ৮-৯ ঘন্টা।
১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর দের জন্য ৭.৫-৮ ঘন্টা।
প্রাপ্তবয়স্ক অর্থাৎ ১৮ থেকে তার উপরে বয়সী মানুষের জন্য ৭-৯ ঘন্টা।

Related posts

হোয়াটসঅ্যাপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘না’ পারনেল–এনগিডিদের

News Desk

পুরুষের তুলনায় নারী-রক্তই বেশি প্রিয় মশাদের, দাবি পতঙ্গবিদদের

News Desk

Yellow Card scheme for adverse events does not suggest any new side effects of COVID-19 vaccines

News Desk

Leave a Comment