free hit counter
অন্যান্য

ইলিয়াস কাঞ্চন জন্ম, পেশা, উচ্চতা, দাম্পত্য সঙ্গী, জীবনী, সিনেমা এবং তথ্য প্রোফাইল

ইদ্রিস আলী (যিনি ইলিয়াস কাঞ্চন নামে জনপ্রিয়) একজন বাংলাদেশী চলচ্চিত্র ও নাট্য অভিনেতা এবং ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তিনি ১৯৭৭ সালে বসুন্ধরা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন। তিনি বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের নব্বইয়ের দশকের একজন জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেতা। কাঞ্চন ৩০০ টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। তার অভিনীত বেদের মেয়ে জোছনা (১৯৮৯) ছবিটি এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সর্বাধিক ব্যবসাসফল ও জনপ্রিয় চলচ্চিত্র হিসেবে স্বীকৃত। তিনি একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও বাচসাস পুরস্কার অর্জন করেন।

তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তার প্রথম স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চনের মৃত্যুর পর তিনি নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন গড়ে তুলেন।সমাজসেবায় তার এই অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার ২০১৭ সালে তাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করে।

ইলিয়াস কাঞ্চনর পূর্ণ জীবনী:

নাম ইদ্রিস আলী
ডাক নাম ইলিয়াস কাঞ্চন
জন্মতারিখ ২৪ ডিসেম্বর ১৯৫৬
বয়স ৬৪ বয়স
জন্মস্থান করিমগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ জেলা
জাতীয়তা বাংলাদেশ
পেশা চলচ্চিত্র অভিনেতা, পরিচালক
কর্মজীবন ১৯৭৭–বর্তমান
ডেবিউ বসুন্ধরা
রাশি মকর রাশি
পিতা হাজি আব্দুল আলী
মা সরুফা খাতুন
ভাই Not Know
বোন Not Know
উচ্চতা ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি
ওজন ৭৪ কেজি
শারীরিক পরিমাপ Not Know
বুকের আকার Not Know
কোমরের মাপ Not Know
বাইসেপ সাইজ Not Know
চোখের রঙ কালো
চুলের রঙ কালো
ধর্ম ইসলাম
গায়ের রং ফর্সা
বৈবাহিক অবস্থা সিঙ্গেল
প্রেমিকা Not Know
স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চন (বি. ১৯৭৯–১৯৯৩)
পুত্র মীরাজুল মঈন জয়
কন্যা ইশরাত জাহান ইমা
শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক(সমাজবিজ্ঞান)
কলেজ কবি নজরুল সরকারি কলেজ
মাতৃশিক্ষায়তন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রিয় রঙ Not Know
প্রিয় অভিনেতা Not Know
পছন্দের খাবার Not Know
শখ Not Know
প্রিয় সিনেমা Not Know
প্রিয় খেলাধুলা Not Know
প্রিয় গন্তব্য Not Know

 

ইলিয়াস কাঞ্চনর প্রাথমিক জীবন :

ইলিয়াস কাঞ্চন ২৪ ডিসেম্বর ১৯৫৬ সালে কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার আশুতিয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা নাম হাজি আব্দুল আলী, মাতার নাম সরুফা খাতুন। তিনি ১৯৭৫ সালে কবি নজরুল সরকারি কলেজ থেকে এইস এস সি পাস করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক শুরু করলেও শেষ করেন নি।

ইলিয়াস কাঞ্চনর চলচ্চিত্র জীবন :

১৯৭৬ সালে পুরান ঢাকায় অবস্থানকালে কাঞ্চন ওয়াপদা মিলনায়তনে একটি মঞ্চনাটকে কাজ করেন। সেই মঞ্চনাটকের অতিথি ছিলেন সুভাষ দত্ত। নাটকটি দেখার পর সুভাষ দত্ত কাঞ্চনকে তার সাথে দেখা করতে বলেন এবং সাহিত্যিক আলাউদ্দিন আল আজাদের তেইশ নম্বর তৈলচিত্র উপন্যাস অবলম্বনে বসুন্ধরা (১৯৭৭) চলচ্চিত্রের পাণ্ডুলিপি দেন। এটি ছিল তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র। ছবিটিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেন ববিতা। এরপর তিনি একই অভিনেত্রীর সাথে অভিনয় করেন ১৯৭৮ সালে ডুমুরের ফুল, ১৯৭৯ সালে সুন্দরী চলচ্চিত্রে। এ সময়ে তার আরও কিছু উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হচ্ছে শেষ উত্তর, নালিশ, অভিযান। রাজ্জাক পরিচালিত অভিযান (১৯৮৪) ছায়াছবিতে রাজ্জাক ও জসিমের পাশাপাশি তার অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করে। ১৯৮৬ সালে আলমগীর কবির পরিচালিত পরিণীতা চলচ্চিত্রে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করেন অঞ্জনা রহমান। ১৯৮৭ সালে মুক্তি পায় কাজী হায়াত পরিচালিত দায়ী কে? ছায়াছবিটি। তার বিপরীতে প্রথমবারের মত অভিনয় করেন অঞ্জু ঘোষ।

চলচ্চিত্রের তালিকা [সম্পাদনা]

বছর চলচ্চিত্র চরিত্র সহ-অভিনেত্রী পরিচালক
১৯৭৭ বসুন্ধরা জাহেদ সুভাষ দত্ত
দয়া মায়া শওকত জামিল
১৯৭৮ ডুমুরের ফুল সুভাষ দত্ত
১৯৭৯ সিকান্দার শামীম নূর হোসেন বলাই
১৯৭৯ সুন্দরী কাঞ্চন আমজাদ হোসেন
১৯৮০ শেষ উত্তর রহমান আজিজুর রহমান
১৯৮১ কলমীলতা অলি শহীদুল হক খান
১৯৮২
নালিশ মমতাজ আলী
বড় বাড়ীর মেয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন
আবদুস সামাদ খোকন
আমজাদ হোসেন
১৯৮৩ মোহনা অলি আলমগীর কবির
১৯৮৪
অভিযান রতন রাজ্জাক
চরম আঘাত সৈয়দ হারুন
১৯৮৫
তিন কন্যা শিবলি সাদিক
ইনসাফ
মতিউর রহমান পানু
১৯৮৬
পরিণীতা শেখর রায় আলমগীর কবির
বিষকন্যার প্রেম নূর হোসেন বলাই
তৌবা
আজহারুল ইসলাম খান
প্রতিরোধ
ফজলে আহমেদ বেনজির
১৯৮৭
দায়ী কে? ফারুক কাজী হায়াৎ
সহযাত্রী
আজহারুল ইসলাম খান
১৯৮৮ ভেজা চোখ জীবন শিবলি সাদিক
আদিল
মোতালেব হোসেন
হুশিয়ার
ফজলে আহমেদ বেনজির
১৯৮৯ বেদের মেয়ে জোসনা রাজকুমার আনোয়ার অঞ্জু ঘোষ
তোজাম্মেল হক বকুল
সেই তুফান হাফিজ উদ্দিন
আত্মবিশ্বাস এম এম বিশ্বাস
আমার আদালত শরিফ শিল্পী চক্রবর্তী
এই নিয়ে সংসার হীরা নূর হোসেন বলাই
বিধাতা
শেখ নজরুল ইসলাম
দুর্নাম শিবলি সাদিক
নিকাহ্ রহমান
বোনের মত বোন দারাশিকো
১৯৯০ শঙ্খ মালা
তোজাম্মেল হক বকুল
ঘড় আমার ঘড় বেলাল আহমেদ
আপন ঘড়
মোস্তফা আনোয়ার
১৯৯১ ন্যায় যুদ্ধ
মনতাজুর রহমান আকবর
শ্বশুর বাড়ি আজিজুর রহমান
রাজার মেয়ে বেদেনি
ফয়েজ চৌধুরী
স্ত্রীর পাওনা রবিন
শেখ নজরুল ইসলাম
১৯৯২
অচেনা আকাশ আহমেদ শিবলি সাদিক
চাকর
মনতাজুর রহমান আকবর
ত্যাগ রায়হান শিবলি সাদিক
গাড়িয়াল ভাই
তোজাম্মেল হক বকুল
রাধা কৃষ্ণ মতিন রহমান
বেপরওয়া মিলন কবির আনোয়ার
১৯৯৩ মহৎ নূর হোসেন বলাই
ভয়ংকর সাত দিন নূর হোসেন বলাই
১৯৯৪ আঁখি মিলন মিলন
মোস্তফা আনোয়ার
গোলাপী এখন ঢাকায় অলি আমজাদ হোসেন
১৯৯৪ আসামী গ্রেফতার আরজু কামারুজ্জামান
১৯৯৪ কমান্ডার বিপ্লব
শহীদুল ইসলাম খোকন
১৯৯৪ সৎ মানুষ ওয়াকিল আহমেদ
১৯৯৫ আদরের সন্তান রাজু আমজাদ হোসেন
১৯৯৫ বাঁচার লড়াই সৈয়দ হারুন
১৯৯৬ দুর্জয় মালেক আফসারী
১৯৯৬ গোলাগুলী
সিদ্দিক জামাল নান্টু
১৯৯৬ বাঁশিওয়ালা
তোজাম্মেল হক বকুল
১৯৯৬ সোহরাব রোস্তম সোহরাব মমতাজ আলী
১৯৯৬ স্বজন
সোহানুর রহমান সোহান
১৯৯৭ আম্মা
গাজী মাজহারুল আনোয়ার
১৯৯৭ গুন্ডা পুলিশ শওকত জামিল
১৯৯৭ মোনাফেক
সাঈদুর রহমান সাঈদ
১৯৯৭
সুখের ঘড়ে দুখের আগুন
গুলজার
১৯৯৭ অন্ধ ভালোবাসা
মনতাজুর রহমান আকবর
১৯৯৮ অচল পয়সা রাজা (মহারাজা) সৈয়দ হারুন
বডিগার্ড আব্দুল্লাহ্ ফারুক
গুপ্ত ঘাতক
আজিজ আহমেদ বাবুল
মেয়ের অধিকার সুভাষ সোম
কালু গুন্ডা অশোক ঘোষ
১৯৯৯ মনে রেখ পৃথিবী
বজলুর রাশেদ চৌধুরী
২০০১ চেয়ারম্যান
মনতাজুর রহমান আকবর
২০০৫ শাস্তি দুখী রাম রায়
চাষী নজরুল ইসলাম
২০০৬ নিরন্তর দবীরউদ্দিন আবু সাইয়ীদ
২০০৬ ও আমার ছেলে সুমন সূভাষ দত্ত্ব
২০০৬ বিদ্রোহী পদ্মা রহমত বাদল খন্দকার
২০০৮ বাবা আমার বাবা ইলিয়াস কাঞ্চন
২০০৮ কে আমি শফিক আহমেদ ওয়াকিল আহমেদ
২০১০ নিঝুম অরণ্যে’ মিনহাজ
মুশফিকুর রহমান গুলজার
২০১১ হৃদয় ভাঙা ঢেউ
গাজী মাজহারুল আনোয়ার
২০১২ আই লাভ ইউ
মুশফিকুর রহমান গুলজার
২০১২ জটিল প্রেম শাহীন-সুমন
১৯৯৪ সিপাহী কাজী হায়াৎ
অচিন দেশের রাজকুমার
তোজাম্মেল হক বকুল
২০১৭ হঠাৎ দেখা অমিত
শাহাদাৎ হোসেন বিদ্যুৎ
রেশমী মিত্র
২০১৮ বিজলী ডক্টর আলম ইফতেখার চৌধুরী
২০২১ ফিরে দেখা ঘোষিত হবে রোজিনা
২০২১ নেত্রী-দ্য লিডার ঘোষিত হবে অনন্ত জলিল

ইলিয়াস কাঞ্চনর পারিবারিক জীবন :

১৯৭৯ সালে জাহানারা কাঞ্চনের সাথে ইলিয়াস কাঞ্চনের কাবিন হয়। ১৯৮৩ সালে তাকে ঘরে তুলেন। তার স্ত্রী ১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর বান্দরবানে ইলিয়াসের চলচ্চিত্রের দৃশ্যায়ন দেখতে যাওয়ার পথে চট্টগ্রামের অদূরে চন্দনাইশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন। এরপর শোকাহত ইলিয়াস চলচ্চিত্র জগত থেকে দূরে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন। তাদের এক পুত্র, নাম মীরাজুল মঈন।

 

বছর পুরস্কার বিভাগ কর্ম ফলাফল
১৯৮৬
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার
শ্রেষ্ঠ অভিনেতা পরিণীতা
বিজয়ী যৌথভাবে
২০০৫ শ্রেষ্ঠ পার্শ্বচরিত্রে অভিনেতা শাস্তি বিজয়ী
২০১৮ একুশে পদক সমাজসেবা বিজয়ী
২০১৮ টেলিভিশন রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ট্রাব) পুরস্কার বিশেষ সম্মাননা বিজয়ী

সড়ক আন্দোলনে অবদান :

ইলিয়াস সামাজিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছেন। ১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর সড়ক দুর্ঘটনায় তার স্ত্রী মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে এ দিনটিকে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তার স্ত্রীর সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হবার পর ১৯৯৩ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে “নিরাপদ সড়ক, নিরাপদ জীবন” শ্লোগানে দীর্ঘদিন কাজ করে যাচ্ছেন তার প্রতিষ্ঠিত নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)। নিসচা আন্দোলন বাংলাদেশে ব্যাপক ভাবে পরিচিতি লাভ করে এবং এর সাথে বিভিন্ন মহল একাত্মতা ঘোষণা করেছে। তিনি বর্তমানে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও প্রধান কান্ডারী। ২০১৫ সালের ৪ মে জাতিসংঘের রোড সেফটি ফর আওয়ার চিলড্রেন কর্মসূচিতে অংশ নেন ইলিয়াস কাঞ্চন। রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল, খিলগাঁও, কাকরাইল, উত্তরা ও ধানমন্ডির পাঁচটি স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিয়ে এই কার্যক্রম চলে। এর স্লোগান- “ভবিষ্যতের জন্য নিরাপদ সড়ক চাই”।সংগঠনের কর্মকাণ্ড জাতিসংঘেও প্রশংসিত হয়। একুশে পদকে ভূষিত হন তিনি। বাংলাদেশের সড়কে চার লেন তৈরি, সড়কে ডিভাইডার তৈরি, মহাসড়ক থেকে নসিমন-করিমন উঠিয়ে নেওয়া, প্রতিবছর নিরাপদ সড়ক দিবস পালন ইত্যাদিতে তিনি ও তার সংগঠন মুখ্য ভূমিকা পালন করে।