free hit counter
আন্তর্জাতিক

বালমোরাল প্রাসাদ থেকে এডিনবরায় রানির কফিন

ছবি: সংগৃহীত

স্কটল্যান্ডের বালমোরাল প্রাসাদ থেকে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের কফিন গতকাল রবিবার নিয়ে যাওয়া হয়েছে এডিনবরায়। সেখান থেকে লন্ডনে নেয়ার পর রাজকীয় আনুষ্ঠানিকতা সেরে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার শেষকৃত্য হবে।

রীতি অনুযায়ী রানির কফিন থাকে রাজকীয় পতাকায় আচ্ছাদিত, যা মূলত যুক্তরাজ্য ও রাজতন্ত্রের প্রতিনিধিত্ব করে। সেই পতাকায় খচিত রয়েছে ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিত্বকারী তিনটি সিংহ, স্কটল্যান্ডের প্রতিচ্ছবি একটি লাল সিংহ এবং আয়ারল্যান্ডের প্রতীক বাদ্যযন্ত্র হার্প। শ্রদ্ধা জানানোর সময় কফিনের ওপর বসানো থাকবে রাজকীয় মুকুট- ইম্পেরিয়াল স্টেট ক্রাউন, যাতে খচিত রয়েছে সেন্ট অ্যাডওয়ার্ডস স্যাফায়ার। এ ছাড়া পৃথিবীর সব চেয়ে বড় হীরা থেকে নেয়া কালিনান-২ হীরাও খচিত রয়েছে ওই মুকটে।

লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার প্রাসাদে পৌঁছানোর পর কফিনের ওপর রাজকীয় গোলক ও রাজদণ্ড রাখা হবে। এই গোলকের ওপর খ্রিস্টান বিশ্বের প্রতিনিধিত্ব করা ক্রস চিহ্ন বসানো হয়েছে। আর রাজদন্ডে রয়েছে কালিনান হীরা থেকে কেটে নেয়া বৃহত্তম রত্ন কালিনান-১। ৯২ সেন্টিমিটার লম্বা দণ্ডটি সোনার তৈরি, যার ওপর কারুকার্য করে আঁকা হয়েছে গোলাপ। এছাড়া রয়েছে স্কটল্যান্ডের প্রতীক থিসেল ও আয়ারল্যান্ডের প্রতীক শ্যামরক।

গত বৃহস্পতিবার স্কটল্যান্ডের বালমোরাল প্রাসাদে মারা যান রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। বালমোরাল প্রাসাদ স্কটল্যান্ডে ব্রিটিশ রাজা বা রানির বাসভবন। গতকাল স্কটল্যান্ডের বালমোরাল প্রাসাদ থেকে রানির কফিন এডিনবারার হলিরুডহাউস প্যালেসে নেয়া হয়। কফিন বহনকারী গাড়িটি ধীরগতিতে এবারডিন, দুন্ডে এবং পার্থ হয়ে ২৫ কিলোমিটারের পথ অতিক্রম করে এডিনবারায় পৌঁছায়। সেখানে সিংহাসন কক্ষে আজ সোমবার বিকাল পর্যন্ত রানিকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য রাখা হবে কফিন। এরপর সেন্ট জাইলস ক্যাথেড্রালে আগামীকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার জন্য রানির কফিন রাখা হবে এবং সবাইকে শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ দেয়া হবে। এরপর এডিনবরা থেকে রয়্যাল এয়ার ফোর্সের বিমানে কফিন পৌঁছবে লন্ডনে। বুধবার রানির কফিন লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার প্রাসাদের প্রাচীনতম অংশ ওয়েস্টমিনস্টার হলে নেয়া হবে। সেখানে তিনি বিশ্রামে থাকবেন। আগের রাজা-রানিদের ক্ষেত্রেও ওই হলের মাঝখানে উঁচু বেদীতে কফিন রাখা হয়েছিল। সার্বভৌম দেহরক্ষী, পদাতিক গার্ড ও অশ্বারোহী সেনা ইউনিট ২৪ ঘণ্টা সেখানে পাহারা দেয়।

সামরিক কুচকাওয়াজের সঙ্গে শোভাযাত্রার মাধ্যমে রানির কফিন ওয়েস্টমিনস্টার হলে নেয়া হবে। রাজপরিবারের সদস্যরা সেখানে থাকবেন। সেই শোভাযাত্রা মানুষ দেখতে পাবে। লন্ডনের রয়্যাল পার্কে বড় পর্দায় সেই দৃশ্য দেখানো হবে।

ওয়েস্টমিনস্টার হলে রাজা ও রাজপরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকতার পর জনগণকে প্রবেশের সুযোগ দেয়া হবে। তবে তারা কীভাবে সেখানে প্রবেশ করে রানিকে একনজর দেখার সুযোগ পাবেন, তা পরে জানাবে বাকিংহাম প্যালেস।

অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া: ওয়েস্টমিনস্টার হলে কয়েকদিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ১৯ সেপ্টেম্বর সোমবার সেখান থেকে স্বল্প দূরত্বের পথ ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবিতে রানির মরদেহ নেয়া হবে। যুক্তরাজ্য জুড়ে সেদিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই অ্যাবি হল একটি ঐতিহাসিক গির্জা, যেখানে রাজা-রানির মাথায় মুকুট পরানো হয়। ১৯৫৩ সালে এই গির্জাতেই রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের অভিষেক হয়েছিল। এর আগে ১৯৪৭ সালে প্রিন্স ফিলিপের সঙ্গে সেখানে তার বিয়ে হয়েছিল।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা রানির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে আসবেন। তারা রানির জীবন ও কর্মজীবনকে স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানাবেন। ব্রিটেনের শীর্ষ রাজনীতি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীরাও থাকবেন।

শেষ শয্যা: অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতার পরে রানির কফিন নিয়ে ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবি থেকে উইন্ডসরের দিকে শেষ যাত্রা হবে। তাকে উইন্ডসর ক্যাসেলের মাঠে সেন্ট জর্জ চ্যাপেলে নেয়া হবে। প্রিন্স ফিলিপের স্মারক অনুষ্ঠানও সেখানে হয়েছিল। একইসঙ্গে রানির নাতি-নাতনির বিয়ের মতো অনুষ্ঠানগুলোও হয়েছিল সেখানে।

অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডেরও রাজা হলেন তৃতীয় চার্লস: ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসকে নিজেদের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বরণ করে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। গতকাল রবিবার দেশ দুটির রাজধানীতে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে তৃতীয় চার্লসকে রাজা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ৯৬ বছর বয়সে মারা যাওয়ার পর চার্লস ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের রাজা হন। গতকাল শনিবার লন্ডনের সেন্ট জেমসেস প্রাসাদে তার অভিষেক হয়।

নিউজিল্যান্ডে রাজা ঘোষণার অনুষ্ঠানটি হয় রাজধানী ওয়েলিংটনের পার্লামেন্টে। পার্লামেন্টের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা অর্ডার্ন বলেন, এই অনুষ্ঠানে রানির পুত্র ‘মহামান্য রাজা তৃতীয় চার্লসকে আমাদের সার্বভৌম হিসেবে’ স্বীকৃতি দেয়া হল। অস্ট্রেলিয়ায় ব্রিটিশ রাজার প্রতিনিধি গভর্নর জেনারেল ডেভিড হারলি রাজধানী ক্যানবেরার পার্লামেন্ট হাউসে রাজা চার্লসকে অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান ঘোষণা করেন। ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে এ ঘোষণা উদযাপন করা হয়।

যুক্তরাজ্যের বাইরে ১৪টি রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান ব্রিটিশ রাজা। এসব রাষ্ট্রের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ড অন্যতম। তবে দেশগুলোতে রাজার এ ভূমিকা মূলত আনুষ্ঠানিক।

ডি- এইচএ

Source link