free hit counter
বাংলাদেশ

মিরসরাইয়ে ২ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রির আশা করছেন চাষিরা 

মিরসরাই উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের সাগর উপকূলের জমিতে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে তরমুজ চাষ হয়েছে। বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে প্রায় দুইশ’ একর জমি এখন তরমুজের সবুজ মাঠ। তরমুজ চাষের ভালো ফলনে চাষিরাও খুশি। চলতি মাস থেকে তরমুজ বিক্রি শুরু হয়েছে। পাইকার ও শৌখিন ক্রেতারা জমিতে এসে তরমুজ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। আকারভেদে প্রতিটি তরমুজ দুইশ’ টাকা থেকে পাঁচশ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে প্রায় দুই কোটি টাকার তরমুজ বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান চাষিরা।

জানা গেছে, মিরসরাই উপজেলার ইছাখালী, মিঠানালা ও কাটাছরা ইউনিয়নের চরাঞ্চলের প্রায় দুইশ’ একর জমিতে চলতি বছর প্রথমবার বাণিজ্যিকভাবে তরমুজ চাষ হয়। উপযুক্ত আবহাওয়া, বালি মিশ্রিত মাটি এবং ইছাখালী খাল থেকে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহের ব্যবস্থা থাকায় তরমুজের ফলনও ভালো হয়েছে। অন্য বছর রবি মৌসুমে চরের অধিকাংশ জমি খালি পড়ে থাকলেও চলতি বছর তরমুজ চাষ করে চমক দেখিয়েছেন উদ্যোক্তারা। 

এ বছর পাশের নোয়াখালী জেলার সুবর্ণ চর উপজেলার ১৫ জন উদ্যোক্তা মিরসরাইয়ে তরমুজ চাষের উদ্যোগ নেন। প্রথমে তারা মাটি ল্যাবে পরীক্ষা করান। মাটি তরমুজ চাষের উপযোগী হওয়ায় গত ডিসেম্বরে তারা স্থানীয় কৃষকদের থেকে তিন মাসের জন্য প্রতি একর জমি ১৫ হাজার টাকা করে বর্গা নেন। সেই জমিতে তারা তরমুজের বীজ বপন করেন। আবহাওয়া উপযোগী হওয়ায় তরমুজ গাছে ফল ও মুকুলে ছেয়ে গেছে।

তরমুজ চাষি মো. মুজাক্কির বলেন, আমরা ১৫ জনের একটি দল নোয়াখালীর মাইজদী কৃষি অফিস থেকে তরমুজ চাষের প্রশিক্ষণ নিয়েছি। এরপর বিগত কয়েক বছর নিজ উপজেলা সুবর্ণচরে তরমুজ চাষ করে সফল হয়েছি। মিরসরাই উপজেলার ইছাখালী, মিঠানালা ও কাটাছরা ইউনিয়নের চরের মাটি ও আবহাওয়া তরমুজ চাষের উপযোগী হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে চাষের উদ্যোগ নিয়েছি। পরবর্তীতে স্থানীয় কৃষকদের থেকে জমি বর্গা নিয়ে চীন, আমেরিকা ও বাংলাদেশি আট প্রজাতির তরমুজ চাষ করি। প্রায় দুইশ’ একর জমিতে প্রায় শতাধিক শ্রমিক কাজ করছেন।

তিনি আরও বলেন, মিরসরাইতে প্রথমবার তরমুজ চাষ করে সফলতা পাওয়া গেছে। চলতি মাসের শুরু থেকে প্রতিদিন ৪-৫টি বড় ট্রাকে করে তরমুজ ঢাকা, চট্টগ্রাম, ফেনী, সাতকানিয়া, চকরিয়াসহ বিভিন্ন পাইকারি আড়তে পাঠানো হচ্ছে। আকার ভেদে চার গ্রেডে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে। ২০০ থেকে ৫০০ টাকায় তরমুজ বিক্রি হচ্ছে। অনেক শৌখিন ক্রেতা জমি থেকে তরমুজ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি। 

নোয়াখালীর সুবর্ণচর তোতারবাজার চর ভাটা গ্রামের সিরাজুল ইসলাম বলেন, ১২ বছর ধরে বিভিন্ন উপজেলায় তিন মাসি ফসল তরমুজ চাষ করছেন। প্রথম যাত্রা শুরু করেন সুবর্ণচর থেকে। এরপর দুই বছর সোনাগাজীতে চাষ করেন। এবার প্রথম বাণিজ্যিকভাবে মিরসরাই উপজেলার ইছাখালী এলাকায় চাষ করছেন। তিন মাসের জন্য বিভিন্ন মালিক থেকে জমি ইজারা নিয়েছি। ৯০ দিনের মধ্যে ফসল বিক্রি শেষ হলে মালিকদের জমি বুঝিয়ে দেবো। আবার পরের বছর নতুন করে লিজ নিয়ে চাষ করবো। এখানের আবহাওয়া তরমুজ চাষের উপযোগী। আশা করা হচ্ছে ফলনও ভালো হবে। এপ্রিল মাসের শুরু থেকে তরমুজ তোলা শুরু হয়েছে। প্রায় এক লাখ পিছ তরমুজ বিক্রি করা হবে বলে জানান তিনি।

 সম্প্রতি পূর্ব ইছাখালি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সবুজ লতার সমারোহ। তরমুজ গাছ ফল আর মুকুলে সয়লাব। শ্রমিকরা বড় সাইজের তরমুজ বিক্রির জন্য এক জায়গায় একত্র করছেন। কেউ আবার সেগুলো গাড়িতে তুলে দিচ্ছেন। জমি থেকে তরমুজ কেনার জন্য মিরসরাই উপজেলাসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে শৌখিন ক্রেতারাও এসে ভিড় করেছেন। পছন্দমতো দরদাম করে তরমুজ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন তারা।

ইছাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল মোস্তফা বলেন, ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে খালি জমি পড়ে থাকতো। এ বছর সুবর্ণচর এলাকার কয়েকজন চাষি সেই জমিতে তরমুজ চাষ করে সাড়া ফেলেছেন। আগামী বছর থেকে ব্যাপকভাবে তরমুজ চাষ করা সম্ভব। প্রশিক্ষণ পেলে মিরসরাইয়ের বিভিন্ন গ্রামে তরমুজ চাষে সফল হওয়া সম্ভব।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রঘুনাথ নাহা বলেন, মিরসরাইয়ে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে তরমুজ চাষ করা হয়েছে। আমি তরমুজের জমি পরিদর্শন করেছি। জমিতে জৈব সার ব্যবহার ও রোগ প্রতিরোধের জন্য চাষিদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছি। আবহাওয়া উপযোগী থাকলে ভালো ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তরমুজ চাষে পরিশ্রম বেশি হলেও অন্যান্য রবিশস্য থেকে এটাতে ৩ গুণ বেশি লাভ হয়।

 

Source link